বাংলা গানের চিরসবুজ গায়ক কুমার বিশ্বজিৎ। একমাত্র ছেলে নিবিড়কে নিয়ে কানাডায় হাসপাতালে রয়েছেন দীর্ঘদিন। সেখানে সঙ্গে তার স্ত্রীও আছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের চিকিৎসার কারণে আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন নিবিড়। ছেলের দুর্ঘটনার পর কুমার বিশ্বজিৎকে গানে তেমন পাওয়া যায়নি। মাঝে আমেরিকায় কয়েকটি অনুষ্ঠানে গেয়েছেন এই কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী। এর পর আবারও দীর্ঘ বিরতি।
নিয়মিত গানের এই মানুষটি গান থেকে ছিলেন অনেকটা দূরে। ছেলের শোকে গানটাকে মনে মনে গুডবাই জানিয়ে দিয়েছিলেন বলাই যায়। কিন্তু খ্যাতিমান এই শিল্পীর কোটি কোটি ভক্ত ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মনের কষ্ট মনে লুকিয়ে রেখে শ্রোতাদের অনুরোধে আবারও গানে ফিরছেন নন্দিত এই গায়ক। অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচটি কনসার্টে গাইবেন কুমার বিশ্বজিৎ।
আগামী ২৩ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আবারও স্টেজ শোতে ফিরবেন এই সংগীতশিল্পী। এর পর একে একে আগামী ২৪ ও ৩০ আগস্ট এবং ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় সব মিলিয়ে পাঁচটি স্টেজে সংগীত পরিবেশন করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এ সম্পর্কে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘নিবিড়ের দুর্ঘটনার সময় থেকে আজ অবধি সারা পৃথিবীর আনাচে-কানাচে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে আমি আমার ছেলের জন্য যে দোয়া পেয়েছি, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। প্রতিনিয়ত তারা নানান মাধ্যমে আমার ছেলের খোঁজ নিয়েছেন। তারা আমার ছেলের জন্য যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তাতে সত্যিই মুগ্ধ আমি। তো সেই সব মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে, ভালোবাসা জানাতে আমি তাদের সামনে আবারও গাইব।
সেই সঙ্গে আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করতে চাই। কারণ ঈশ্বরের অসীম কৃপায় আর সবার দোয়া-ভালোবাসায় নিবিড় এখন বেশ সুস্থ। সে যেন পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে এই দোয়াই চাই আমি সবার কাছে। যারা আমাকে অস্ট্রেলিয়ায় পরপর পাঁচটি শো করার সুযোগ করে দিচ্ছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অনেক দিন পর দর্শকদের সামনে স্টেজে গাইব এ জন্য ভালো লাগছে।’
এদিকে কুমার বিশ্বজিৎ বেশ কয়েকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিন বছর আগে বইমেলায় প্রকাশ হয়েছিল এই শিল্পীর আত্মজীবনীমূলক বই ‘এবং বিশ্বজিৎ’। এ সম্পর্কে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, ‘এই বইটি প্রকাশ হওয়ার পর আমার মনে প্রায়ই চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল- জীবনে আমি এমন কী করেছি যার জন্য আত্মজীবনীর মতো মহৎ কিছুর প্রয়োজন?
সংগীতে আমার আসলে কতটা অবদান আছে? আমার মনে হয় সংগীতেও আমার অবদান খুব কম। তবুও আমার জীবনের অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে এই বইতে, যা আমি আমার দীর্ঘ যাত্রায় রেখে এসেছি।’
/এমএস