ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকসহ বিশ্বনেতারা।
গত রবিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আমি বারবার জোর দিয়ে বলছি যে, এই অঞ্চল বা বিশ্ব আরেকটি যুদ্ধ মেনে নিতে পারবে না। আমি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। এমন কোনো পদক্ষেপ যেন না নেওয়া হয়- যাতে একাধিক ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত শুরুর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অশান্তি শুরু হয়।’
এরই মধ্যে এই হামলার বিষয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার। যদিও জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি ইরানে পালটা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একাধিক পশ্চিমা গণমাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ইসরায়েল কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালালে তাতে অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তেলআবিবকে এ কথা সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এক বিবৃতিতে এই হামলাকে হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই হামলা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীল করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
কায়রোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বৈরিতা ও হামলা বৃদ্ধিতে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছে এবং ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সামরিক বৃদ্ধি’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতি জারি করে ‘সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করার এবং এই অঞ্চল ও এর জনগণকে যুদ্ধের বিপদ থেকে রক্ষা করার’ আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন সেজর্ন অন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইরান তার অস্থিতিশীলতার কাজে একটি নতুন স্তরে পৌঁছেছে এবং একটি সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঝুঁকি নিচ্ছে।’
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আমরা চলমান হামলার নিন্দা জানাই, যা একটি সমগ্র অঞ্চলকে বিশৃঙ্খলার মধ্যে নিমজ্জিত করতে পারে। ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীদের অবিলম্বে এমন তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। জার্মানি ইসরায়েলের পক্ষে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে।’
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অটোয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘কানাডা ইরানের বিমান হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা করছে। আমরা ইসরায়েলের পাশে আছি।’
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলির কার্যালয় এক বিবৃতিতে হামলার মুখে ইসরায়েলের প্রতি তার ‘সংহতি ও অটুট প্রতিশ্রুতি’ ব্যক্ত করেছে।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, ‘ইতালি মনোযোগ ও উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি পরিচালনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’
এদিকে ইরানের জাতিসংঘ মিশন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ‘এই সামরিক পদক্ষেপ দামেস্কে আমাদের কূটনৈতিক কার্যালয়ে ইহুদিবাদী শাসকদের আগ্রাসনের পাল্টা জবাব ছিল। ইসরায়েল সরকার আরেকটি ভুল করলে সেক্ষেত্রে ইরানের জবাব আরও কঠোর হবে।’
সেই বার্তায় আরও বলা হয়, ‘এটি ইরান ও দুর্বৃত্ত ইসরায়েল সরকারের মধ্যে একটি সংঘাত। এমন সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে!’ সূত্র: আল-জাজিরা/বিবিসি