কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় থাকা রাশিয়ার সেনাঘাঁটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সিরিয়ায় থাকা রাশিয়া তার সব সেনা ও সরঞ্জাম সরিয়ে নেয় নি। তবে গত কয়েকদিনে রাশিয়া থেকে অনেকগুলো ফ্লাইট উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী দেশ লিবিয়াতে অবতরণ করেছে।
সিএনএন জানিয়েছে, সেখানে থেকে আফ্রিকা এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অভিযান চালানোর জন্য রাশিয়া লিবিয়ার আল-খাদিম ঘাঁটিতে তাদের সেনা মোতায়েন শুরু করেছে। এর আগে রাশিয়া বহু বছর ধরেই আল-খাদিম ঘাঁটিতে জেনারেল হাফতারের বাহিনীকে ভাড়াটে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।
সিএনএনের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায় যে, গত ৮ ডিসেম্বর আসাদ সরকারের পতনের পর, মস্কোর আন্টনভ এএন-১২৪ এবং ইলিশিন আইএল-৭৬ বিমানগুলো প্রতিদিন সিরিয়ার খামেইমিম ঘাঁটি থেকে আল-খাদিমে যাতায়াত করছে। এই ঘাঁটি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে, জেনারেল খলিফা হাফতার-নিয়ন্ত্রিত বেনগাজির কাছে অবস্থিত।
সিরিয়া থেকে সেনা, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে শুরু করেছে রাশিয়া। আফ্রিকার দেশ মালি, বুরকিনা ফাসোতে রাশিয়ান সেনারা ইতোমধ্যে অবস্থান করছে। সুদানের গৃহযুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া এমন খবর এর আগে পাওয়া গেছে। আফ্রিকার অনেক দেশে ভাড়াটে সৈন্য ও অস্ত্র সরবরাহ করছে রাশিয়া।
রাশিয়া যদি লিবিয়াতে সেনাঘাঁটি ও সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে তাহলে আফ্রিকাতে রাশিয়ার প্রভাব পশ্চিমাদের থেকে বেশি হবে কারণ ফ্রান্সের সৈন্যরা মালি ও বুরকিনা ফাসো থেকে সরে গেছে। তাছাড়া লিবিয়া থেকে আফ্রিকার অন্যান্য দেশে ভূমধ্যসাগরের বিশাল জলরাশিয়ার ওপরও নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে রাশিয়া। সূত্র: সিএনএন
মাহফুজ/এমএ/