আট দিনের জন্য গেলেও দেখতে দেখতে প্রায় আট মাস কেটে গেল। চলতি বছরের ৬ জুন থেকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস। এর মধ্যে ইংরেজি নববর্ষে এক অবিশ্বাস্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছেন তিনি। একটি বা দুটি নয়, ১৬টি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখেছেন তিনি।
বর্তমানে সুনীতা উইলিয়ামস ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে রয়েছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ২০২৪ সাল যেখানে শেষ হচ্ছে, সেখানে এ ধরনের অনুভূতির অংশীদার হয়ে তিনি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছেন। পৃথিবীর বাইরে থেকে এমন একটি অভিজ্ঞতাকে শেয়ার করতে পেরে অন্য রকম লাগছে তার।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কী করে সম্ভব হলো?
ইন্টারন্যাশনাল স্পেশ স্টেশনের তরফ থেকে এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, পৃথিবী থেকে প্রায় ২৬০ মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৪১৮ কিলোমিটার ওপরে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। এটি ঘণ্টায় প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল (২৮ হাজার ১৬০ কিলোমিটার) বেগে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরছে। সেই হিসেবে প্রতি ৯০ মিনিটে পৃথিবীর চারপাশে একবার করে ঘুরছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনটি।
৯০ মিনিট বা দেড় ঘণ্টার এই হিসাবে এক দিনে, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় ১৬ বার পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে মহাকাশ স্টেশনটি। যে কারণে মহাকাশ স্টেশনে বসবাসকারী নভোচারীরা দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় এবং ১৬ বার সূর্যাস্ত দেখতে পান।
সুনীতা উইলিয়ামস বর্তমানে বোয়িংয়ের স্টারলাইনার স্পেস ক্রাফ্টে রয়েছেন। সেখানে তার প্রধান সঙ্গী রয়েছেন বেরি উইলমোর। তাদের ফেরত নিয়ে আসার যানটি বর্তমানে পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন একটি যান তৈরি করে সেটিকে মহাকাশে পাঠানোর চেষ্টা করছে নাসা।
একটি ভিডিও শেয়ার করে নাসা জানিয়েছে, পৃথিবীর বাইরে সুনীতা যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করছেন, তা আগামী দিনে মহাকাশ গবেষণার নতুন দিক খুলে দেবে। সেখানেই তারা বড়দিন উদযাপন করেছেন। এবার নতুন বছরকে সেখান থেকেই দেখলেন এই দুই মহাকাশচারী।
তৃতীয়বারের জন্য মহাকাশ অভিযানে গেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা। গত ৫ জুন নাসার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস স্টেশন থেকে মহাকাশযান বোয়িং সিএসটি-১০০ স্টারলাইনার ক্যাপস্যুলে চড়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, আনন্দে হাততালি দিয়ে নেচে নেচে স্পেস স্টেশনে ঢুকছেন তিনি।
আট দিন পর ফেরার কথা থাকলেও মহাকাশযানে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তখন থেকে স্পেস স্টেশনে আটকে রয়েছেন সুনীতারা। জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন তারা। ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্স-এর সঙ্গে যৌথভাবে নাসা যে যান তৈরি করেছে, সেটাতেই ফিরবেন দুই মহাকাশচারী। সূত্র: এনডিটিভি ও আজকাল