ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে ইউরোপে যাওয়া রাশিয়ান ‘গ্যাজপ্রম’- এর গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ করে দেয় জেলেনস্কি সরকার। গ্যাজপ্রমের পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে সস্তা গ্যাস সরবরাহ করত রাশিয়া। গত ডিসেম্বরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এ গ্যাস সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করায় ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দেয়।
কিন্তু রাশিয়া থেকে তরল গ্যাস কিনে রেকর্ড গড়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো যা ইউক্রেনের মধ্য দিয়ে সরবরাহ করা গ্যাসের চেয়েও পরিমাণে বেশি।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, শীতকালীন আবহাওয়ায় ইউরোপের গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যা ইউক্রেনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আগের স্তরকেও ছাড়িয়ে গেছে।
প্রতিবেদন মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২০ সালে ১০.৫ মিলিয়ন টন তরল প্রাকৃতিক গ্যাস কিনেছে যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ১৫.৫ মিলিয়ন টনে। এ পরিমাণ গ্যাস পাইপলাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের চেয়েও বেশি।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ তাতিয়ান অরলোভা বলেন, ‘রাশিয়া থেকে ধীরে ধীরে জ্বালানি আমদানি কমিয়ে আনতে চেয়েছিল ইউরোপ কিন্তু এ পরিকল্পনা সফল হয়নি। বরং রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে এনে যে ঘাটতি হয়েছে ইউরোপে তা মেটাতে আরও বেশি জ্বালানি কিনতে হবে রাশিয়া থেকে।’
এদিকে ইউরোপে রিজার্ভ জ্বালানি ব্যবহারের হার বেড়েছে শীতকালে যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ অবস্থায় হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়ে সংকট ঘনীভূত হওয়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থা থেকে রেহাই পেতে দ্রুত রাশিয়া থেকে তরল গ্যাস কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপ যা এখনো নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নেই।
ইনস্টিটিউট অব এনার্জি ইকোনোমিক্স এন্ড ফিনান্সিয়াল এনালাইসিসের মতে, ২০২৪ এর প্রথম অর্ধেকে ইউরোপে ২১ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। যেখানে ৪৬ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ও ১১ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে কাতার।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার ওপর জ্বালানিসহ নানা খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। তারপরও রাশিয়া থেকে গ্যাস কেনা অব্যাহত রেখেছে ইউরোপ। ইউরোপের এই পদক্ষেপকে অনেকেই কৌশলগত দ্বৈতনীতি হিসেবে দেখছেন। উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এখনো বিশ্বের অন্যতম গ্যাস সরবরাহকারী দেশ হিসেবে তার শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ইউরোপের বিকল্প হিসেবে রাশিয়া চীন ও ভারতে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ
মাহফুজ/এমএ/