চলতি সপ্তাহেই গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যদিও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে বর্বর-পৈশাচিক হামলা অব্যাহত রেখেছে দখলদার দেশ ইসরায়েল।
গত সোমবার আন্তর্জাতিক পলিসি বিষয়ে দেওয়া এক ভাষণে বাইডেন বলেন, গাজায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ধ্বংসলীলার পর অবশেষে একটি যুদ্ধবিরতির দ্বারপ্রান্তে উভয় পক্ষ। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আমার কয়েক মাস আগে বিস্তারিতভাবে যে প্রস্তাবনা দিয়েছিলাম, তা অবশেষে বাস্তবায়িত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক সার্ভিসে বহু বছর ধরে কাজ করে আমি শিখেছি, কখনোই হাল ছাড়া উচিত নয়। আমরা একটি সমাধানে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
এর আগে সোমবারই হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি এও জানিয়েছিলেন যে, এই ধরনের একটি চুক্তির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব না।
‘আমরা একটি চুক্তির কাছাকাছি আছি এবং এটি এই সপ্তাহে সম্পন্ন হতে পারে। আমি প্রতিশ্রুতি বা পূর্বাভাস দিচ্ছি না। কিন্তু প্রস্তুত অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে এবং আমরা এটি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করতে সক্ষম’ সুলিভান বলেছেন। ‘আমরা গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং জিম্মি মুক্তিবিষয়ক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আছি’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট বাইডেন কাতারে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন। এ ছাড়া এই বিষয়ে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গেও আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলটির মাঝে অবস্থিত সীমারেখায় তেল আবিবের সেনা উপস্থিতি বজায় থাকবে। এমন একটি নতুন পরিকল্পনা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে জমা দিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে, জিম্মি মুক্তি নিয়ে নতুন পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এতে।
গাজায় হত্যাযজ্ঞ চলছেই
এদিকে কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনার সমান্তরালে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনও চলছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটিতে ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার ৬০০।
তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যেই নিহত হয়েছেন আরও ১২ জন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলমান হামলায় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৩১ জন আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনী দুটি পরিবারের ওপর হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ১৯ জনকে হত্যা করেছে এবং ৭১ জনকে আহত করেছে। অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকর্মীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।’ সূত্র: আল-জাজিরা, আনাদোলু