যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুই হতে চলেছেন প্রথম বিদেশি নেতা, যিনি হোয়াইট হাউসে আসবেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এ মুহূর্তে যুদ্ধাপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, নেতানিয়াহুকে এক চিঠির মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েল ও তার আশপাশের দেশগুলোতে কীভাবে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি এবং আমাদের শত্রুপক্ষকে কীভাবে প্রতিহত করতে পারি, তা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী চার ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসে আসার জন্য আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
নেতানিয়াহু যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউস সফর করা প্রথম বিদেশি নেতা হতে চলেছেন– সে বিষয়টি চিঠিতে উল্লিখিত রয়েছে। গাজার যুদ্ধবিরতি খুব বেশি দিন টিকবে বলে মনে করছেন না ট্রাম্প। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরায়েল ও হামাস খুব শিগগিরই দীর্ঘমেয়াদি একটি শান্তি আলোচনায় বসবে। তবে অনেকেরই আশঙ্কা, তা শেষ পর্যন্ত কাজে দেবে না। আবারও রক্তপাত শুরু হয়ে যাবে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ততটা মসৃণ নয়। তবে ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এর আগে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ওই আলোচনার পর থেকে ইসরায়েলকে বোমা পাঠানোর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা উঠিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে গত সপ্তাহে ট্রাম্প গাজা উপত্যকা পুরোটাকে সাফ করতে চেয়েছেন। সেখানে বসবাসকারী ১৫ লাখেরও বেশি মানুষকে অন্যান্য আরব দেশে পাঠানোর প্রস্তাব রেখেছেন।
গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলায় ৪৭ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারানোদের বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষ। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় রসদ গাজায় ঢুকতে দেয়নি ইসরায়েল। এতে করে ক্ষুধায় কষ্ট করেছে গাজার মানুষ। বেসামরিকদের হত্যা ও যুদ্ধে ক্ষুধাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুকে অভিযুক্ত করে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আইসিসির সদস্য ১২০টিরও বেশি দেশ। সেগুলোতে পা রাখলে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির চুক্তির কোনো অংশ নয়। ফলে সেখানে যেতে বাধা নেই নেতানিয়াহুর। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান