আসক্তির ঝুঁকিবিহীন নতুন একপ্রকারের ব্যথানাশক ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘জর্নাভেক্স’ নামে বাজারে আসা সুজেট্রিজিন নামক এই ওষুধটি ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আগেই কাজ শুরু করবে।
ওষুধটি উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান ভার্টেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে ওষুধটি প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা উপশমে কার্যকর এবং প্রচলিত অপিওয়েড জাতীয় ওষুধের মতো আসক্তি তৈরি করবে না।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার ও আসক্তি সমস্যায় ভুগছে। ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘জাতীয় সংকট’ হিসেবে চিহ্নিত করে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন।
এফডিএ জানিয়েছে ক্লিনিকাল ট্রায়ালে ‘জর্নাভেক্স’ দারুণ সফলতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে সার্জারিজনিত ব্যথা কমাতে তো বেশ সহায়ক। তীব্র ব্যথা কমানোর জন্য এটিকে মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও প্রিভেনশনের মতে, প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১০ হাজার মানুষ মারা যায় ব্যথানাশক ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত সেবনের কারণে। তবে শুধু ২০২২ সালেই ৮২ হাজার মানুষ মারা গেছে অপিওয়েড জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত সেবনের ফলে।
প্রচলিত অপিওয়েড জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ ব্যথা উপশমের পাশাপাশি মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ ঘটিয়ে ইউফোরিয়ার অনুভূতি তৈরি করে, যা আসক্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অপিওয়েড চিকিৎসা গ্রহণকারী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের ওষুধের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন।
তবে ‘জর্নাভেক্স’ আলাদা প্রক্রিয়ায় কাজ করে। এটি ব্যথার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আগেই প্রতিরোধ করে, ফলে অপিওয়েডের মতো আসক্তির ঝুঁকি থাকে না। ভার্টেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস বলছে, এটি গত ২০ বছরে অনুমোদন পাওয়া প্রথম নতুন ব্যথানাশক ওষুধ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় ৮ কোটি মানুষ ব্যথার ওষুধ গ্রহণ করে, তাদের জন্য এটি নতুন বিকল্প হতে পারে। ভার্টেক্স জানিয়েছে, এই ওষুধের প্রতি ক্যাপসুলের মূল্য হবে ১৫.৫০ ডলার (প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকা)। তবে এটি শিশুদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর কিনা, তা নিয়ে এখনো গবেষণা চলছে। সূত্র: বিবিসি