যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পারমাণবিক তৎপরতা প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে জেরুজালেমে বৈঠক শেষে রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এ কথা বলেন তিনি।
ইরানের হুমকি ব্যর্থ প্রতিপন্ন করতে তেল আবিব ও ওয়াশিংটন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিরোধ করা উচিত জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আয়াতুল্লয়াহ’রা (ইরানের শিয়া প্রশাসন) যেন পারপমাণবিক ক্ষমতাধর হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বিগড়াতে না পারে-এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আলোচনা সংঘটিত হয়েছে।’
নেতানিয়াহুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে মার্কিন কর্মকর্তা রুবিও বলেন, ‘এই অঞ্চলে যত জঙ্গী তৎপরতা ও সহিংসতা ঘটে-খতিয়ে দেখলে প্রত্যেকটির পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে।’
ইরানের মদদপুষ্ট সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথিদের ‘প্রতিরোধের কেন্দ্রবিন্দু’ বলা হয়। পশ্চিমা ভাষ্যে এই বিদ্রোহীরা ‘জঙ্গী’ বলেই পরিচিত।
অথচ ফিলিস্তিনের গাজায় আধিপত্য নিয়ে হামাসের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি আক্রমণে প্রায় ১৫ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৭ হাজারের বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি। ঘরছাড়া হয়েছে গাজা অঞ্চলের প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী।
এদিকে নেতানিয়াহুর মতে, ইসরায়েল ইরানের ‘মুখে চপেটাঘাত করেছে’। মার্কিন সহায়তায় চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে আত্মবিশ্বাসী এই নেতা জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইসরায়েলের কাছে শক্তিশালী বোমা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ধ্বংসাত্মক এমকে-৮৪ বোমার বিশাল একটি চালান এসে পৌঁছেছে ইসরায়েলের সামরিক মজুদাগারে।
হামাসকে প্রতিহত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রুবিও বলেন, ‘যতদিন গাজায় হামাসের আধিপত্য থাকবে, ততদিন এই অঞ্চলে শান্তি আসবে না।’
এদিকে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ক্যাবিনেট সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আলোচনায় বসবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি গাজাবাসীদের উৎখাত করে অঞ্চলটি পূনর্নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়ার পর ট্রাম্পের ওপর বেজায় খেপেছে আরববিশ্ব। তবে এই প্রস্তাবকে ‘সাহসী’ ও ‘দুরদর্শী’ বলছেন রুবিও।
মধ্যপ্রাচ্যের আরেক অস্থিতিশীল দেশ সিরিয়া নিয়েও মন্তব্য করেছেন মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুৎ হওয়ার পর প্রশাসন সামলাচ্ছে বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে রুবিও বলেন, ‘সিরিয়ায় স্বৈরশাসনের পর এলো অস্থিতিশীল প্রশাসন। এটা আর যাই হোক- ইতিবাচক অগ্রগতি নয়।’
এ পরিস্থিতিতে গাজাসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি নিয়ে শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স
নাইমুর/