ইউক্রেনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ সম্পূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। যা ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতির চুক্তি করার ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন এবং ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট করে।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এই দুই নেতার মধ্যে আলোচনায় এই বৈপরীত্য দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ সংবাদ প্রকাশ করে।
দুই নেতার মধ্যে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হলেও, ম্যাখোঁ স্পষ্টভাবে ট্রাম্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সঙ্গে একমত হননি। ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর তিন বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তারা একত্রে আলোচনা করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে এক সপ্তাহ আগেই তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরাচারী’ বলেছিলেন।
অন্যদিকে ম্যাখোঁ বলেছিলেন, এটি স্পষ্ট যে রাশিয়া ‘আক্রমণকারী’ হিসেবে কাজ করেছে। এ বিষয়ে ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে স্পষ্ট ছিলেন না।
এক যৌথ প্রেস কনফারেন্সে ম্যাখোঁ বলেন,‘প্রেসিডেন্ট পুতিন শান্তি ভঙ্গ করেছেন।’
এদিকে ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধবিরতি চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, একটি চুক্তি হয়ে গেলে তিনি মস্কোতে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে ম্যাখোঁ শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য একটি ধীর ও বিবেচনাপূর্ণ পন্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি শুরুতে একটি শান্তিচুক্তি এবং পরে একটি নিরাপত্তা নিশ্চয়তাসহ চুক্তির দাবি জানান।
‘আমরা দ্রুত শান্তি চাই, তবে আমরা একটি দুর্বল চুক্তি চাই না,’ ম্যাখোঁ সাংবাদিকদের বলেন। তিনি আরও বলেন, শান্তি চুক্তি অবশ্যই মূল্যায়ন, যাচাই ও পরীক্ষিত হতে হবে।
এ সময় দুই নেতা একমত হন যে, শান্তিচুক্তি হয়ে গেলে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ‘তারা সম্মুখসীমায় থাকবে না, তারা কোনো সংঘর্ষে অংশ নেবে না। তারা শুধু শান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করবে,’ ম্যাখোঁ জানান।
ট্রাম্প জানান, তিনি ও পুতিন উভয়ই ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী বিষয়ে একমত। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/