যুক্তরাষ্ট্রের দুই বৃহৎ প্রতিবেশী এবং মিত্র দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে মঙ্গলবার (৪ মার্চ) থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আজ থেকে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবেন এবং শেষ মুহূর্তে আলোচনার আর কোনো সুযোগ নেই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনারা জানেন, শুল্ক আরোপের বিষয়ে সব ঠিকঠাক আছে। এগুলো আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) থেকেই কার্যকর হবে।’
গত মাসে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশ জারি করে কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন। তবে কানাডার তেল ও জ্বালানি পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়বে না। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর কয়েক দিন পর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে তৎপর কূটনৈতিক আলোচনার পর ট্রাম্প এই শুল্ক কার্যকরের তারিখ পিছিয়ে ৪ মার্চ নির্ধারণ করেন।
এর আগে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১৫৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ, যা দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ জোগান দেয়।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন, যার মধ্যে শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে ট্রুডো বলেন, কানাডা ১৫৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের মার্কিন আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যার মধ্যে ৩০ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে এবং বাকি অংশ ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।
জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্যিক পদক্ষেপ এবং আমাদের প্রতিক্রিয়ার বাস্তব প্রভাব পড়বে উভয় দেশের জনগণ ও শ্রমিকদের ওপর। আমরা এই পরিস্থিতিতে আসতে চাইনি, আমরা এটি চাইনি। কিন্তু আমরা কানাডীয়দের পক্ষে এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের সফল অংশীদারত্ব রক্ষায় পিছপা হব না।’
অপরদিকে, শেইনবাউম জানান, মেক্সিকোর স্বার্থ রক্ষায় শুল্ক আরোপের পাশাপাশি দ্বিতীয় পরিকল্পনাও রয়েছে। তা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। এই পরিকল্পনায় শুল্কের পাশাপাশি শুল্কবহির্ভূত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
দিনা/সালমান/