পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে চার শতাধিক যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেন হাইজ্যাক করে সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। তারা ট্রেনটিতে থাকা কিছু জিম্মিকে ছেড়ে দিয়ে সামরিক কর্মকর্তাসহ অন্যদের জিম্মি করে রেখেছে।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বেলুচিস্তানের বোলান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১২ মার্চ) এনডিটিভি জানায়, বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) বিদ্রোহীদের এবং পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ সারারাত ধরে চলে। জাফর এক্সপ্রেসের ভিতরে কতজন জিম্মি রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিএলএ তাদের কোনো সদস্য হতাহতের ঘটনা অস্বীকার করে উল্টো ৩০ জন সৈন্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেনি।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কমপক্ষে ২৭ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে এ পর্যন্ত ১৫৫ জন জিম্মিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গোষ্ঠিটি হুমকি দিয়ে বলেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পুলিশ যদি জিম্মিদের বাঁচাতে কোনো ধরনের অভিযান চালায় তাহলে সকল জিম্মিকে হত্যা করা হবে।
বুধবার (১২ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্স দেশটির রেলওয়ে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, জাফর এক্সপ্রেস ট্রেনটি চার শতাধিক যাত্রী নিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার পেশওয়ারে যাওয়ার সময় সেটিতে হামলা চালায় সশস্ত্র বন্দুকধারীরা। হামলাকারীরা নারী, শিশু, বয়স্ক ও বেলুচিস্তানের নাগরিকদের ছেড়ে দিয়ে বাকি ১৮২ জনকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের উদ্ধারের কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএলএ।
সাংবাদিকদের ই-মেইল এবং টেলিগ্রামে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা ডনকে জানান, ট্রেনটি সকাল ৯টার দিকে ৪৫৯ জন যাত্রী নিয়ে কোয়েটা থেকে পেশোয়ারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে তারা খবর পান যে, মুশকাফের কাছে অবস্থিত রেলওয়ে টানেল নম্বর ৮-এর কাছে পনীর ও পেশি রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে ট্রেনটি হামলার শিকার হয়েছে। সশস্ত্র ব্যক্তিরা ইঞ্জিনে রকেট দিয়ে হামলা চালায়। যার কারণে ট্রেনটি থেমে যায়। ট্রেনের চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানের পুলিশ স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, হামলায় ট্রেনের চালকসহ তিনজন আহত হওয়ার তথ্য পেয়েছে তারা। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স
দিনা/অমিয়/