কানাডার ২৪তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত শুক্রবার শপথ নিয়েছেন মার্ক কার্নি। আগেই অনুমান করা গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর হবেন জাস্টিন ট্রুডোর এই উত্তরসূরি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর অটোয়ার রিডিউ হলের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেই তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে নিজেদের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে জুড়ে নেওয়ার অভিলাষ জানিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তার দিকে ইঙ্গিত করে কার্নি বলেছেন, ‘আমরা কোনোভাবেই, কোনো আকার বা প্রকারে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হব না। আমরা মৌলিকভাবে একটি ভিন্ন দেশ।’
কানাডার সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে জানিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বলেন, ‘কানাডা আপনাদের কাছ থেকে সম্মান প্রত্যাশা করে।’
এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে কার্নি সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, সাবেক সরকারি হাউস নেতা কারিনা গোল্ড ও সাবেক সংসদ সদস্য ফ্রাঙ্ক বেলিসকে ৮৫.৯ শতাংশ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। এর আগে কোনো নির্বাচনে জেতার অভিজ্ঞতা নেই তার এবং হাউস অব কমন্সে তার কোনো আসন নেই, যা একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে কানাডার ইতিহাসে বিরল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্যযুদ্ধ এবং পার্লামেন্টে আসন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি হাউস অব কমন্সের অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না- এমন অদ্ভুত বাস্তবতার মধ্য দিয়ে কার্নি আগামী দিনে একটি নির্বাচন ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, কানাডার ওপর মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক যদি দীর্ঘসময়ের জন্য বহাল থাকে, তা হলে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে এবং একের পর এক অস্থিরতার সূচনা করতে পারে।
গত শুক্রবার সকালেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘কানাডা অর্থনৈতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হলে দেশটির জন্য আরও ভালো হবে।’ তার এ মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে কার্নি বলেন, ‘এটা পাগলামি। আপনি শুধু এটুকুই বলতে পারেন।’ সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান