ভারতের মিরাটে মার্চেন্ট নেভি কর্মকর্তা সৌরভ রাজপুত হত্যাকাণ্ড ঘিরে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল।
জানা যাচ্ছে, তদন্তের সময় পুলিশ সাহিলের ঘরে তান্ত্রিক প্রতীক, শয়তানের গ্রাফিতি এবং রহস্যময় বার্তায় ভরা লেখা দেখতে পায়। যা তার ‘কালো জাদুর প্রতি আচ্ছন্নতাকে’ প্রকাশ করে।
সাহিলের ঘরের একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হচ্ছে। এতে তার ঘরের চারপাশে বিয়ারের ক্যান এবং সিগারেটের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
তদন্তকারী পুলিশ সুপার আয়ুশ বিক্রম সিং শুক্রবার (২১ মার্চ) বলেন, ‘মুসকান ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তিনি জানতেন সাহিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং তাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তিনি তার এই দুর্বলতার সুযোগ নেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে জাদুবিদ্যায় সাহিলের জড়িত থাকার বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আমরা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে এটি তদন্তের অংশ হয়ে যাবে।’
সৌরভকে হত্যার আগে মাদকাসক্ত করা হয়। এরপর ১০ বার ছুরিকাঘাতে হত্যার পর তার দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলেন তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং প্রেমিক সাহিল।
গত ৪ মার্চ রাতে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মুসকান ভুয়া স্ন্যাপচ্যাট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সাহিলকে তার মৃত মা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে বোঝাতে চায় যে, কাউকে না কাউকে মরতে হবে।
হত্যার পর সৌরভের মৃতদেহ এক রাত বাথরুমে এবং পরে ১৫ দিন সিমেন্টভর্তি ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর সৌরভের স্ত্রী এবং তার প্রেমিক সাহিল ১২ দিনের ছুটিতে সিমলায় চলে যান।
মিরাটের এসএসপি ড. বিপিন তাদা বলেন, ‘সৌরভকে হত্যার পর, তারা দেহাবশেষ ফেলে দিতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। তাই তারা কাটা মাথাসহ তার দেহ প্রথমে বাথরুমে ফেলে রেখে যায়।’
এর আগে সৌরভ ফোন রিসিভ না করে শুধু মেসেজে উত্তর দেওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয় তার পরিবারের। তারপর তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে সৌরভ হত্যাকাণ্ডে মুসকান ও তার প্রেমিক সাহিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর পুলিশি জেরায় তারা জানায়, সৌরভকে খুন করে তারা দেহ টুকরো করে বাড়িতে একটি ড্রামে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেয়। পরে সুযোগ বুঝে তা সরিয়ে ফেলার প্ল্যান ছিল। যদিও তার আগেই ধরা পড়ে যায় মুসকান ও সাহিল। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া
দিনা/অমিয়/