একের পর এক শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়ে শুল্ক-যুদ্ধ বাধিয়ে পুরো বিশ্বকে কার্যত নাড়িয়ে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাড়তি শুল্কারোপের জবাবে চীন, কানাডা, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশ পাল্টা পদক্ষেপও নিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে শুল্কারোপ নিয়ে নতুন ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, শিগগিরই ওষুধ আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) এই তথ্য জানায় দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
বার্তাসংস্থাটি বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন খুব শিগগিরই ওষুধ আমদানির ওপর ‘বড়’ শুল্ক ঘোষণা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কারোপে বিশ্বব্যাপী ওষুধের বাজারে কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শুল্ক নীতি চূড়ান্ত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবায় নতুন বিতর্কের সূচনা হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ওষুধ আমদানির ওপর শুল্ক বাড়লে আমেরিকান ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জেনেরিক ওষুধের দাম বাড়ার ঝুঁকি আছে।
যদিও ট্রাম্প-সমর্থকরা এর সাফাই দিয়ে বলছে, এতে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, চাকরি সৃষ্টি হবে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিরাপদ হবে।
এদিকে ন্যাশনাল রিপাবলিকান কংগ্রেসনাল কমিটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই শুল্ক ওষুধ কোম্পানিগুলোকে তাদের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে উৎসাহিত করবে। যদিও এতদিন ওষুধ এবং সেমিকন্ডাক্টরগুলোকে পারস্পরিক শুল্ক নীতির আওতার বাইরে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
কিন্তু ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বিশ্বের অনেক বড় বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো ধাপে ধাপে শুল্ক বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে। তারা দাবি জানায়, এই শুল্ক একবারে ২৫ শতাংশ না করে কয়েক বছরে ধীরে ধীরে যেন বাড়ানো হয়। মূলত শুল্কের ধাক্কা কমাতে এবং উৎপাদন স্থানান্তরের জন্য সময় চাইছে কোম্পানিগুলো।
এছাড়া, ফার্মাসিউটিক্যাল খাতকেও এবার শুল্কের আওতায় আনার ইঙ্গিত দেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ২৫ শতাংশ শুল্ক যেকোনো দিন আসতে পারে।
দেশটির ওষুধ কোম্পানিগুলো সতর্ক করে জানায়, হঠাৎ শুল্ক বাড়লে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং রোগীদের এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা বহন করতে হতে পারে। সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
দিনা/অমিয়/