পাকিস্তানে থাকা আফগানিস্তানের শরণার্থীদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে পাকিস্তান সরকার। জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি এপ্রিলের মধ্যে ৮০ হাজার শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। এপ্রিলের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৫০০ শরণার্থীকে ইতোমধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে পাকিস্তানে ৩৫ লাখ আফগান নাগরিক বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি নাগরিকের বৈধ নথিপত্র নেই। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় আফগানিস্তানের ক্ষমতায় যাওয়ার পর নতুন করে ৭০ হাজার আফগান নাগরিক পাকিস্তানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গত শনিবার কাবুলে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ইসহাক দার পাকিস্তানের উদ্বেগের বিষয়গুলো তুলে ধরেন এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনা করেন। এ বৈঠকের পর তালেবান কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় ২০ লাখ আগফান নাগরিককে ফেরত পাঠাতে পারে পাকিস্তান। এখন দৈনিক ৭০০-৮০০ পরিবারকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
দশকের পর দশক যুদ্ধবিধ্বস্ত থাকার কারণে আফগানিস্তানের এসব নাগরিক পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই শরণার্থী হিসেবে পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছে, সেখানে বিয়ে করেছেন, সন্তানও আছে। পাকিস্তান-আগফগানিস্তানের সীমান্তে জড়ো হওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। অনেকেই বলেছেন, তারা পাকিস্তানে বেড়ে উঠেছেন। আফগানিস্তানে তাদের কখনোই যাওয়া হয়নি। এখন তাদের আফগানিস্তানে জোর করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তারা বুঝতে পারছেন না আফগানিস্তানে গিয়ে তারা কী করবেন, কিংবা তাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। অনেকেই বলছেন, তাদের কন্যারা পাকিস্তানের স্কুলগুলোতে পড়ালেখা করছে, কিন্তু আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে তাদের আর পড়াশোনা করতে দেওয়া হবে না। তা ছাড়া তালেবান শাসনকেও অনেকে ভয় পাচ্ছেন। শরণার্থীবিষয়ক কর্মীরা বলছেন, অধিকাংশ মানুষই যেতে চাচ্ছেন না, বিশেষ করে যারা পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছেন। তারা বারবার অনুরোধ করছেন তাদের ফেরত না পাঠানোর জন্য।
পাকিস্তান সরকার বলছে, আফগান নাগরিকদের পাকিস্তানে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে শরণার্থীদের আর রাখা সম্ভব নয় পাকিস্তানের পক্ষে। তা ছাড়া এসব নাগরিককে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি মনে করছে পাকিস্তান। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে তালেবান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতে বেসামিরক নাগরিকসহ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক শীতল হয়েছে। পাকিস্তান এর জন্য পাকিস্তানের মাটিতে থাকা তেহরিক-ই-তালেবান-পাকিস্তান (টিটিপি)-কে দায়ী করেছে। তবে তা অস্বীকার করেছে তালেবান সরকার।
বিশালসংখ্যক এ শরণার্থীকে হঠাৎ করে ফেরত পাঠোনো হলে আফগানিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অবকাঠামোর জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করবে। সাড়ে চার কোটি জনসংখ্যার আফগানিস্তানের বহু নাগরিক এমনিতেই দুর্ভিক্ষের আশঙ্কায় রয়েছেন। নতুন এ শরণার্থীর ঢল পরিস্থিতি খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।
আফগানিস্তানের শরণার্থীবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা বখত জামাল গোহার বলেছেন, তারা পাকিস্তানের সঙ্গে বিবাদমান সব বিষয় মীমাংসা করেছেন কিন্তু এখন বিশাল শরণার্থীর ঢল আফগানিস্তানের জন্য নিঃসন্দেহে চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, যাদের এখন ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের অনেকের বাড়িঘর ২০ বছর আগেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে যুদ্ধের কারণে। সূত্র: বিবিসি।