গত বছর গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর পর সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ এবার বার্ষিক হজযাত্রার জন্য মক্কায় অবৈধ ভ্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ এবার এখন পর্যন্ত হজ পারমিট ছাড়া ২,৬৯,৬৭৮ জন হজযাত্রীকে অনুমতি ছাড়াই মক্কায় প্রবেশে বাধা দিয়েছে। হজে অতিরিক্ত ভিড়ের জন্য অনুমতি ছাড়াই আসা এসব অংশগ্রহণকারীদের দায়ী করছে দেশটি।
সোমবার (২ মে) ইউরো নিউজ এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায়।
সৌদি সরকারের হজ কর্মকর্তারা জানান, গত বছর হজ মৌসুমে তীব্র তাপদাহে অনেক হাজীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হওয়ায় এ বছর ‘অবৈধ’ হজযাত্রীদের মক্কায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। হজের অনুমতি না থাকায় এ পর্যন্ত ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৮ জন হজযাত্রীকে মক্কা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সৌদি সরকার জানায়, অনুমতি ছাড়া হজ করতে আসায় মক্কায় হাজীদের ভিড় বেড়ে যায়। গত বছর অতিরক্ত ভিড় ও তীব্র তাপদাহের কারণে ১ হাজার ৩০০ হাজী মারা গেছেন। এ বছর যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিক মৃত্যু না ঘটে, তাই ভিড় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং অবৈধ হজযাত্রীদের মক্কায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে মক্কায় অন্তত ১৪ লাখ হজযাত্রী রয়েছেন বলেও জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার আগে হাজযাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অনুমতি ছাড়া হজ করতে গিয়ে আটক হলে ৫ হাজার ডলার (€৪,৪০০) জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তির বিধান রয়েছে সৌদি আরবে। এই নীতিতে সৌদি নাগরিকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার মক্কায় এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি কর্মকর্তারা বলেন, ‘সৌদি আরবের নাগরিক হলেও তাকে হজের জন্য অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া হজের পরিকল্পনা করায় এখন পর্যন্ত ২৩ হাজারের বেশি সৌদি নাগরিককে জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০টি হজ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।’
প্রতি বছর হজ মৌসুমে নানা কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গত রবিবার সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স জানায়, এ বছর হাজীদের নিপাত্তায় প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ড্রোন নজরদারি ও পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত হবে। সূত্র:ইউরো নিউজ
সুলতানা দিনা/