আপৎকালীন বিনিয়োগ খাত হিসেবে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দ্বিগুণ হারে স্বর্ণ কিনেছে। টানা তৃতীয় বছরের মতো এবারও বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গত দশকের বার্ষিক গড় হিসাবের তুলনায় দ্বিগুণ স্বর্ণ কিনেছে। আগামী ১২ মাসেও স্বর্ণ কেনা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)। এই প্রবণতা দেখে অনেকে মনে করছেন স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে।
সংস্থাটির ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক গোল্ড রিজার্ভ সার্ভে ২০২৫’-এ বিশ্বের ৭৩টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী এক বছরে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোতে স্বর্ণ মজুত বাড়বে। আগের বছরের জরিপে এ হার ছিল ৮১ শতাংশ। এ ছাড়া ৭৬ শতাংশ ব্যাংক জানায়, আগামী পাঁচ বছরে তারা স্বর্ণের মজুত বাড়াবে। গত বছর এ হার ছিল ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে এ সমীক্ষায় রেকর্ড ৪৩ শতাংশ ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের নিজ নিজ দেশের স্বর্ণ মজুতও এ সময় বাড়বে, ২০২৪ সালে যা ছিল ২৯ শতাংশ। ডলারের বিষয়ে আশাবাদী নয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। আইএমএফের তথ্যানুসারে, বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলারের অংশ ক্রমাগত কমছে এবং ৭৩ শতাংশ ব্যাংকের মতে, আগামী পাঁচ বছরে এ হার আরও কমবে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল বলছে, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট ও ডলারের মান নিয়ে উদ্বেগের কারণেই বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ কেনায় বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। সমীক্ষায় ৮৫ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘আপৎকালীন বিনিয়োগ’ হিসেবে স্বর্ণকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ৮১ শতাংশ এটিকে ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগ খাত বৈচিত্র্যকরণ ও ৮০ শতাংশ ‘দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সঞ্চয়ের মাধ্যম’ হিসেবে দেখেছে বলে ডব্লিউজিসি জানায়।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, তিন বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতিবছর ১ হাজার টনের বেশি স্বর্ণ কিনছে। এর আগের দশকে যেখানে বার্ষিক গড় কেনার পরিমাণ ছিল ৪০০-৫০০ টন।
সাধারণত যেকোনো ভূরাজনৈতিক ও অর্থনীতির অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। স্বর্ণের বাজারদর ২০২৪ সালে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্প্রতি ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেও বুধবার (১৮ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল স্বর্ণের দাম। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।
স্পট মার্কেটে বুধবার স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৩৮৩ ডলার ১ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৩ হাজার ৪০১ ডলার ৩০ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ