ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন হ্যারি কেইন রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশের ১০ জন কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ৩য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক শিশু নিহত চট্টগ্রামের নিখোঁজের ২ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
Nagad desktop

ইরান কীভাবে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হলো?

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৫, ০২:০৪ পিএম
ইরান কীভাবে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হলো?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর পর তেহরান ইসরায়েলের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় এবং কিছু ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আক্রমণে ইরানে ৬৩৯ জন নিহত এবং এক হাজার ৩২০ হয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। 

এই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রায় ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত শত ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। যার ফলে ইসরায়েলে কমপক্ষে ২৪ জন নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছেন। হামলার ভয়ে দেশজুড়ে ইসরায়েলিদের বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

ইরানের কিছু ক্ষেপণান্ত্র মধ্য ইসরায়েলের আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। যার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজধানী তেল-আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলের সুরক্ষিত সামরিক সদর দপ্তর কিরিয়াতেও আঘাত হেনেছে। যদিও সেখানে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

মঙ্গলবার ইরান বলেছে, তারা একটি সামরিক গোয়েন্দাকেন্দ্র এবং মোসাদ গুপ্তচর সংস্থার একটি অপারেশন পরিকল্পনাকেন্দ্রে হামলা করেছে, যা ইসরায়েলের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইসরায়েল এই সিস্টেমগুলোর মাধ্যমে বেশিরভাগ হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তার স্বাক্ষর আয়রণ ডোম। তাহলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কীভাবে ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করছে?

ইসরায়েলের আয়রন ডোম কী?
আল জাজিরার প্রতিরক্ষা সম্পাদক অ্যালেক্স গ্যাটোপোলোস বলেন, যদিও আয়রন ডোম ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত, এটি একটি বৃহত্তর ব্যবস্থার একটি অংশ মাত্র, যার মধ্যে রয়েছে ‘এই বহুস্তরীয়, সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর।’

আয়রন ডোম ছোড়া রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করে, তার পথ নির্ধারণ করে এবং তা আটকে দেয়। ইসরায়েল জানায়, আয়রন ডোম ৯০ শতাংশ কার্যকর। ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধের সময় রকেট আক্রমণ মোকাবেলা করার জন্য এটি তৈরি করার পর এটি ২০১১ সালে কার্যকর হয়।

গ্যাটোপোলোস ব্যাখ্যা করে, যে আয়রণ ডোমটি নিম্ন-স্তরের রকেটগুলোকে বাধা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা। এগুলো বড় বড় ক্ষেপণাস্ত্র সনাক্ত করতে সক্ষম হবে না।

ইসরায়েলের ‘বারাক-৮’ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও রয়েছে, যা মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে। তাছাড়া, টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম, যা স্বল্প-মাঝারি এবং মাঝারিপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে; এবং ডেভিড’স স্লিং, যা মাঝারি থেকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগু প্রতিহত করে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কী?
ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অ্যারো-২ এবং অ্যারো-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দেয়। যেমন, বর্তমান সংঘাতে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।

অ্যারো প্রকল্পের প্রধান ঠিকাদার হলো রাষ্ট্রায়ত্ত ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ, এবং বোয়িং ইন্টারসেপ্টর তৈরির সঙ্গে জড়িত। অ্যারো-২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভেতরে এবং বাইরে সামান্য বেশি উচ্চতায় আসা ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দেওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি ইসরায়েল আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। যার মধ্যে ইসরায়েলের দিকে অগ্রসর হওয়া ড্রোন ধ্বংস করার জন্য যুদ্ধ হেলিকপ্টার বা যুদ্ধবিমানের মতো বিমান ব্যবহার করা হয়।

বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?
ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তিনটি উপাদান দিয়ে তৈরি: একটি রাডার সিস্টেম, একটি কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং ইন্টারসেপ্টর মিসাইল-সহ একটি লঞ্চার।

রাডারে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্রে নজর রাখা হয়, যা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে সতর্ক করে এবং কোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হবে তা নির্ধারণ করে।

কিংস কলেজ লন্ডনের পোস্টডক্টরাল গবেষক মেরিনা মিরন আল জাজিরাকে বলেন, লঞ্চারটি সাধারণত শত্রুপক্ষের একটি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায়।

সমস্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমিত সংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত এবং ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সঠিক সংখ্যা জনসাধারণের কাছে অজানা।

ইজরায়েলের আয়রণ ডোম

ইরান কি ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেছে?
গত শনিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘৮০ বা ৯০ শতাংশ সাফল্যের হার’ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ব্যবস্থারই নিখুঁত হার নেই। এর অর্থ হলো কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা দুর্গ ভেদ করে এসেছিল।

ইরান কীভাবে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে?
যদিও আমরা ঠিক জানি না, কিভাবে কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে গেছে। তবুও ইরানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র বাধা এড়াতে সক্ষম হওয়ার কয়েকটি সম্ভাব্য উপায় রয়েছে।

ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা
ইরানের ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য উপায় হলো ইসরায়েলের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ এবং পরিপক্কতার সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেয়। কারণ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে একটি উপায় হলো দ্রুত গতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সংকেত পাঠাতে কম সময় দেয়।

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র  রাডার দ্বারা সনাক্ত করা হলেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে বাধা দেওয়া কঠিন।

কিছু হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রে একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল (এইচজিভি)ও থাকে, যা একটি ওয়ারহেড যা ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি শব্দের গতির চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে চলতে এবং গ্লাইড করতে পারে। ইরানের ফাত্তাহ-২ এইচজিভি ব্যবহার করে। দ্রুত গতিতে চলার সময় এইচজিভিগুলো জিগজ্যাগ করে এবং নিয়মিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ভবিষ্যদ্বাণীমূলক পথে অগ্রসর হয় না।

ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে এবং বাধা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ইরানের অস্ত্রাগারে হোভেজেহ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। যদিও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ধীর, তবুও এগুলো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করে নিচু এবং স্থিরভাবে পাইলটবিহীন বিমানের মতো উড়ে যায়।

বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার অন্য কোনো উপায় আছে?
বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার আরেকটি উপায় হলো ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রের ছলনা দিয়ে তাদের সিস্টেমগুলো ওভারলোড করে পরীক্ষা করা।

কিছু ক্ষেপণাস্ত্র রাডার ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি, যা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য সনাক্ত করা অসম্ভব করে তোলে।

ইরান বা ইসরায়েলের কি ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যেতে পারে?
ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত এই মুহূর্তে আক্রমণাত্মক। গত সোমবার ইসরায়েল ইরানের আকাশসীমার ওপর আধিপত্যের দাবি করেছে। তবে, ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে সবচেয়ে কম দূরত্ব হলো এক হাজার কিলোমিটার (৬২০ মাইল)। ইসরায়েলি বিমানেরগুলো জন্য যা অনেক দীর্ঘ পথ। প্রয়োজন জ্বালানীর। সেক্ষেত্রে আকাশে জ্বালানি ভরার ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা

অমিয়/

আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বহাল থাকছেন বলে রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ‘আবেদনকারীর পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির মতো কোনো প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন খারিজ করা হলো।’

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার জবাব আবেদনকারীকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুলাই। ফলে সেই সময় পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

রায় প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। 

তার দাবি, ‘আদালতের এই রায়ে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমাদের বিধায়কের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।’

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃার হওয়ার পরও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। 

প্রশ্ন ওঠে, বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?

বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়েই একাধিক প্রশ্ন তোলে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দলের বিদ্রোহী শিবির সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে। 

প্রথমে ৫৮ জন এবং পরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি তুলে তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। সেই সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেন স্পিকার।

এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চিঠিটিকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হলো না এবং কেন পরবর্তী চিঠিটি গ্রহণ করা হলো।

আদালতে জানানো হয়, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন স্পিকার। 

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কি স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নাকি দলীয় অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন? 

তার মন্তব্য, ‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সেই প্রশ্নে আমি যাচ্ছি না। তবে যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঙ্গত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ৭৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছে? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?’

বুধবার আদালত রায় সংরক্ষণ করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকবেন। সূত্র: আজতক

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. ইস্তিনাব মাহী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্তরা/

সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য এনডিএর আর ৬ ভোট লাগবে
ছবি: সংগৃহীত

গত দুই সপ্তাহে ভারতের রাজনীতিতে একটি নতুন মোড় এসেছে, যা দেশটিকে এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক পথের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বড় রাজনৈতিক উত্থান এবং মহারাষ্ট্রে ক্রমশ দানা বাঁধতে থাকা আরেকটি রাজনৈতিক পরিবর্তন।

এপ্রিলে নারী সংরক্ষণ প্যাকেজের অংশ হিসেবে সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত একটি সংবিধান সংশোধনী বিল বিরোধী দলগুলোর চাপে আটকে গিয়েছিল। লোকসভায় ৫৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হতে ব্যর্থ হয়। তবে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করা হলে তা এবার পাস হয়ে যেতে পারে।

৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর দলটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জন দলত্যাগ করে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে নিজেদের একীভূত করেছেন। এই বিদ্রোহী সাংসদদের অন্তর্ভুক্তি দলটিকে সংসদে সরাসরি উপস্থিতি দেবে এবং এনডিএর জন্য একটি শক্তিশালী মিত্রে পরিণত করবে।

মহারাষ্ট্রেও উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) একই ধরনের সংকটে রয়েছে। দলটির ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ছয়জন দলত্যাগের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন এবং তারা একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে এনডিএ, যারা বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য এটি অপরিহার্য।

লোকসভার ৫৪৩টি আসনের দুই-তৃতীয়াংশ হলো ৩৬২টি আসন। তবে বর্তমানে তিনটি আসন শূন্য থাকায় কার্যত প্রয়োজনীয় সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬০।

বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিচ্ছিন্ন অংশসহ এনডিএর লোকসভায় ৩১৮ জন সাংসদ রয়েছে। বিরোধী শিবিরের সাংসদ সংখ্যা ১৮৪ এবং নির্দলীয় রয়েছেন ৩৮ জন। ফলে সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য সরকারের আরও ৪২ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, বিল পাসের ক্ষেত্রে ‘উপস্থিত ও ভোটদানকারী’ সদস্যদের সংখ্যাই চূড়ান্তভাবে বিবেচিত হয়।

দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে বিজেপি ভারত জোটের অন্যান্য ছোট দলগুলোর দিকে নজর রাখছে। বিজেপির কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, দলটি ভারত জোটভুক্ত কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে, যার মধ্যে মহারাষ্ট্রভিত্তিক একটি দলও রয়েছে।

রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৬৪ জন সদস্যের সমর্থন। যদিও রাজ্যসভার সর্বোচ্চ অনুমোদিত সদস্যসংখ্যা ২৫০, বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ২৪৫ জন।

রাজ্যসভায় এনডিএর সদস্যসংখ্যা ১৫০। ডিএমকের আটজন সদস্যের সমর্থন পেলে এই সংখ্যা বেড়ে ১৫৮-তে পৌঁছাবে, তখন প্রয়োজন হবে মাত্র আরও ছয়জন সদস্যের সমর্থন। তৃণমূল কংগ্রেসের তিনজন সদস্যের পদত্যাগের পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচন এবং কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পেলে এনডিএ সেই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যায় পৌঁছাতে সক্ষম হতে পারে।

একবার সেই লক্ষ্য অর্জিত হলে নারী সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত বিলটি আবার সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। এমনকি আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশনেই এ উদ্যোগ দেখা যেতে পারে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি৭ সম্মেলনে ইউক্রেনকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বনেতাদের বলেছেন, ‘আমিই বস’।

বুধবার (১৭ জুন) ট্রাম্প এবং জি৭ এর অন্যান্য নেতারা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের উন্নতির বিষয়টি স্বীকার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দেন।

১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ রিসোর্টে অনুষ্ঠিত জি৭ এর শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের ক্রমবর্ধমান দর কষাকষির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বলেন, ইউক্রেনের পাল্টা লড়াই ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং কোনো শান্তিচুক্তির শর্ত নির্ধারণ করার মতো অবস্থানে রাশিয়া নেই।

ট্রাম্প বলেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়া বেশি সৈন্য হারাচ্ছে এবং মস্কো এই সংঘাতের ‘আক্রমণাত্মক’ পক্ষ।

২০২৫ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন ইউক্রেন বিষয়ে কোনো যৌথ অবস্থান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার ভার্সাই প্রাসাদে এক জমকালো নৈশভোজের আগে ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্প উভয়েই জি৭ শীর্ষ সম্মেলনকে সফল বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে নিজের আসনে বসতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জি৭ প্রধান ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘আমিই বস’ মন্তব্যটি করেন।

থিওটোনিয়াস/

ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৪ দফার এই নথি পড়ে শোনান।

আগামীকাল (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এর আগেই বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।

জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

চূড়ান্ত চুক্তি ও খসড়ার মূল পার্থক্য সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া খসড়াটির সঙ্গে চূড়ান্ত নথির দুটি প্রধান জায়গায় অমিল রয়েছে। এগুলো হলো-

১) ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয়করণ: ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিষ্ক্রিয় করতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তত্ত্বাবধানে একটি 'ন্যূনতম পদ্ধতি' যুক্ত করা হয়েছে, যা আগের খসড়ায় ছিল না।

২) হরমুজ প্রণালী: চূড়ান্ত চুক্তিতে উল্লেখ আছে যে, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনো প্রকার শুল্ক বা চার্জ ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে।

সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ ১৪ দফা:

১. যুদ্ধ অবসান: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং এই যুদ্ধে জড়িত তাদের মিত্র দেশগুলো এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিচ্ছে। এখন থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী পদক্ষেপ নেবে না এবং বলপ্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

২. সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা: দুই দেশই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

৩. চূড়ান্ত আলোচনার সময়সীমা: উভয় পক্ষ আগামী সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আলোচনার এই সময়সীমা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

৪. নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের আশেপাশের এলাকা থেকে তার সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে।

৫. হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং বিপরীতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে। ইরান এই রুটের সব কারিগরি ত্রুটি ও মাইন অপসারণ করবে।

৬. ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক তহবিল: ইরান পুনর্গঠন এবং দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা তৈরি করবে, যেখানে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।

৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

৮. পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান পুনর্ব্যক্ত করছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরানের সমৃদ্ধকৃত পরমাণু সামগ্রীর ভবিষ্যৎ এবং পরমাণু সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত চুক্তিতে বিস্তারিতভাবে সমাধান করা হবে।

৯. স্থিতাবস্থা বজায় রাখা: চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান স্তরেই স্থির রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা এই অঞ্চলে নতুন করে সেনা বাড়াবে না।

১০. তেল রপ্তানিতে ছাড়: এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উঠে যাওয়ার দিন পর্যন্ত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং এর উপজাত সামগ্রী রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড় দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন সেবার মতো খাতগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

১১. ফ্রিজ হওয়া অর্থ মুক্তি: চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইরানের আটকে থাকা বা ফ্রিজ হওয়া সমস্ত তহবিল ও সম্পত্তি অবমুক্ত করা হবে। এই অর্থ সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান (ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) তাদের নির্ধারিত যেকোনো সুবিধাভোগীর পেমেন্টের জন্য সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স দেবে।

১২. তদারকি কমিটি: চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে একটি যৌথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা বা মেকানিজম গঠন করা হবে।

১৩. পরবর্তী আলোচনা: এই সমঝোতা স্মারকের ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর, উভয় দেশ বাকি ধারাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য মূল আলোচনায় প্রবেশ করবে।

১৪. জাতিসংঘের অনুমোদন: চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বা রেজোলিউশনের মাধ্যমে অনুমোদিত ও বৈধ হতে হবে।

পর্দার আড়ালের রাজনীতি যদিও এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা একে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তাৎপর্য কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

তাদের মতে, এই খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনা এবং খসড়ার কিছু অংশকে 'ত্রুটিপূর্ণ ও নির্ভুল নয়' বলে দাবি করেছে। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/অমিয়/