ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ব্যাপারে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত না করলেও দেশটির নেতৃস্থানীয় অনেকে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এসবের মধ্যেও থেমে নেই গাজায় হামলা।
ইসরায়েলি হামলায় মঙ্গলবার (১ জুলাই ) গাজায় অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
অবরুদ্ধ উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিহতদের মধ্যে সহায়তাপ্রত্যাশী ও তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক ফিলিস্তিনিরা রয়েছেন। আল-জাজিরার খবর বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের সহায়তা বিতরণকেন্দ্র থেকে সাহায্য আনতে গিয়ে ইসরায়েলের গুলিতে গত ৫ সপ্তাহে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০০-এর বেশি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের দৈনিক হারেৎজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সেনাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গাজায় সহায়তাপ্রত্যাশীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে গুলি চালানো হচ্ছে। কমান্ডারদের নির্দেশ পালন করে যাচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। যদিও মৃতের সংখ্যা ও পরিস্থিতি তুলে ধরছে ভিন্ন চিত্র।
গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন ছাড়া অন্য কোনো সংস্থাকেও সহায়তা অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে প্রবেশ করাতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গাজার বহু অংশই সহায়তা থেকে বঞ্চিত। শিশুদের দুধ ও পুষ্টি উপাদান নেই, রোগীদের হাতে ওষুধ নেই, হাসপাতাল চালানোর মতো রসদ নেই। পুরো গাজা অপেক্ষা করছে নির্মম এক বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার জন্য। জাতিসংঘ এরই মধ্যে একাধিকবার দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিতে মৃত্যুর সতর্কবার্তা জানিয়েছে।
উত্তর গাজার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র আল শিফার কর্মকর্তারা বলেছেন, হাসপাতালের জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। শত শত রোগী মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে হাসপাতাল জ্বালানিও সংগ্রহ করতে পারছে না।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় অন্তত ৫৬ হাজার ৬৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ১০৫ জন।
গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনে সহায়তা নিতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে কি না, তা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী খতিয়ে দেখবে বলে জানিয়েছে। ১৭০টিরও বেশি দাতব্য সংস্থা ও এনজিও এরই মধ্যে বিতর্কিত সহায়তা সংস্থাটি বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অক্সফ্যাম ও সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো সংস্থাগুলো বলছে ইসরায়েলি বাহিনী ‘নিয়মিতভাবে’ সহায়তাপ্রত্যাশীদের ওপর গুলি চালাচ্ছে।
তবে ইসরায়েল বলছে, হামাসের হস্তক্ষেপ থেকে বিতরণ কর্মকাণ্ডকে সুরক্ষিত রাখতেই ওই গুলি চালানো হচ্ছে।
এদিকে, গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। বরং বিষয়টি বাঁকা চোখে দেখছেন তারা। এর আগে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও কোনো যুদ্ধবিরতি হয়নি। উল্টো ব্যাপক হামলার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।
তবে ২১ মাসের ব্যাপক হামলা, ধ্বংস ও হত্যার পর ফিলিস্তিনিরা বেশ ক্লান্ত। তারা যেকোনো বিরতির জন্য মরিয়া। ট্রাম্পের মুখ থেকেও বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরতির আলাপ উত্থাপন হওয়ায় তারা এর ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কয়েকজন।
সূত্র: আল-জাজিরা