ইসরাইল ও সিরিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক।
শুক্রবার(১৮ জুলাই)সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে তিনি এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
টম ব্যারাক জানান, এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে তুরস্ক, জর্ডান এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো। খবর সিএনএনের।
এ চুক্তিকে একটি কূটনৈতিক মাইলফলক বলা হচ্ছে যা মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিরসনের লক্ষ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের দূত ব্যারাক বলেন, আমরা দ্রুজ, বেদুইন এবং সুন্নি সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি—আপনারা অস্ত্র নামিয়ে রাখুন এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে নিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে একটি নতুন এবং ঐক্যবদ্ধ সিরিয়া গড়ে তুলুন।
ইসরাইল গত বুধবার (১৬ জুলাই) সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের সরকারি স্থাপনাসমূহে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলের দাবি করে, তারা দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে।
বাশার আল-আসাদের পতনের পর বর্তমান সরকারপন্থি বাহিনী ও দ্রুজদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত দশকের পর দশক ধরে চাপা থাকা জাতিগত বিভাজন আবারও গুরুতর আকার ধারণ করেছে।
সিরিয়ান কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবার ইসরায়লের হামলায় কমপক্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। দামেস্কে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবনে আঘাত হানার একটি মুহূর্ত সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়। যেখানে স্টুডিওতে থাকা উপস্থাপক হামলার শব্দে আতঙ্কিত হয়ে নিচু হয়ে যান।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বুধবার রাতের এক জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে জানান, সরকারি বাহিনী সুয়েইদা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। এই অঞ্চলে গত সপ্তাহের শেষে দ্রুজ ও বেদুইনদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়, যার মধ্যে হস্তক্ষেপ করতে গিয়েই সরকারি বাহিনীর সঙ্গে দ্রুজদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
একই ভাষণে শারা অভিযোগ করেন, ইসরাইল আমাদের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায় এবং সিরিয়াকে একটি অস্থির যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে চায়।
এছাড়া, শারা সরকার দ্রুজ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পৃথক একটি যুদ্ধবিরতিতেও সম্মত হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতও ধীরে ধীরে সংলাপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সুলতানা দিনা/