ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি হলে স্পেসএক্সের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের সব ধরণের চুক্তি বাতিলের হুমকি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে, এই চুক্তিগুলো বাতিল করা কার্যত অসম্ভব। কেননা, এগুলো বাতিল করলে মার্কিন মহাকাশ কার্যক্রম ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মারাত্মক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এই বিষয়টি দেশটির প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনাতেও উঠে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্পেসএক্সের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের চুক্তিগুলোর পর্যালোচনায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা মনে করছেন - এই প্রতিষ্ঠান ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই, যারা একই রকম দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে মহাকাশে যন্ত্রপাতি প্রেরণ করতে পারে। ফলে, চুক্তিগুলো বাতিল করাটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।
এছাড়া, তাদের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট চুক্তি নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, এখন পর্যন্ত একটিও বাতিল করা হয়নি। কারণ, স্পেসএক্সই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাকাশবিষয়ক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪ সালেও বিশ্বের মোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ৮৩ শতাংশই সম্পন্ন করেছে স্পেসএক্স।
মার্কিন সরকার এবং স্পেসএক্স সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বহু বছর ধরেই কাজ করছে। স্পেসএক্সের প্রযুক্তি বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক বাহিনীর যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন সরকার থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেয়েছে, এবং আরও ১৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি রয়েছে।
তবে স্পেসএক্স ছাড়াও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার প্রশাসনের সাতটি চুক্তি হয়েছিল জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ব্লু অরিজিনের সঙ্গে। তবে এখন পর্যন্ত স্পেসএক্স পেয়েছে ২৮টি, যা ব্লু অরিজিনের প্রায় ৪ গুণ। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটি মাস্কের প্রতিষ্ঠানের নির্ভরযোগ্যতা ও সক্ষমতারই প্রমাণ।
বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ বিশ্লেষক টড হ্যারিসন বলেন, ‘স্পেসএক্সের কোনো বিকল্প নেই। অন্য কোনো উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের এই সক্ষমতা অর্জন সম্ভব নয়।’
স্পেসএক্স ছাড়াও মার্কিন সরকার মাস্কের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তিবদ্ধ। চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে মাস্কের মালিকানাধীন এক্সএআই নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানির সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে তারা।
এই ঘোষণার আগে সম্প্রতি বিতর্ক সৃষ্টি করে এক্সএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট ‘গ্রোক’। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এটি নিজেকে ‘মেকাহিটলার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
সুলতানা দিনা/