চীনের একটি প্রযুক্তি কোম্পানি এক অভিনব রোবট ব্যান্ড তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব মানবিক রোবট গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দর্শকের সামনে নিজেদের পরিবেশনা তুলে ধরবে এই রোবট দলটি।
সম্প্রতি সিএনএন রোবট ব্যান্ডটির পারফর্মেন্সের আগেকার মহড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।
প্রযুক্তি ও শিল্পের এই অসাধারণ মিশ্রণে রয়েছে পাঁচ রোবট শিল্পী— কীবোর্ড, লিড গিটার, ড্রাম ও বেইস, এবং রিদম গিটার বাদক। তারা সবাই রোবট। তারা একটি সহযোগী কম্পিউটিং সিস্টেম ব্যবহার করে সঙ্গীতের আসল স্বরলিপি বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট গতিবিধি্র নির্দেশাবলী নিয়ে পরিবেশনা করে থাকে।
রোবটগুলো সঙ্গীত শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবহারযোগ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার মধ্যে বাস্তবসম্মত অস্ত্র এবং সরাসরি মিথস্ক্রিয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা অন্তর্ভুক্ত।
রোবটদের নোটেশনের জন্য কোন বইয়ের প্রয়োজন নেই, নেই ভুলচুকের আশঙ্কা। একক ও দলীয়, দুই পরিবেশনাই হবে স্বয়ংক্রিয়। তাদের সবার জন্য রয়েছে একটি যৌথ কম্পিউটিং ‘মস্তিষ্ক’ যা রিয়েল-টাইমে সংগীতের নোট বিশ্লেষণ করতে ভূমিকা রাখে।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হফেই প্যানশি টেকনোলজির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকৌশলী উ ছাও জানান, লোকগীতি ফেংইয়াং ফ্লাওয়ার ড্রাম বাজানোর ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৬৭ সেকেন্ডে কীবোর্ডিস্ট বাম হাতে দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ আঙুল দিয়ে ৫৩তম ও ৬০তম কী চাপবে এবং সাসটেইন প্যাডেলে পা দেবে। এ সবকিছুই সম্পন্ন হয় নির্দেশনার মাধ্যমে। তিন মিনিটের একটি গানের জন্য রোবটের ভেতর প্রায় এক হাজার নির্দেশনা প্রক্রিয়াকরণ হয়।
গেমসের উদ্বোধনের জন্য ব্যান্ডের হার্ডওয়্যারও আরো উন্নত করা হয়েছে। আগের নিউম্যাটিক জয়েন্টের বদলে দেওয়া হয়েছে মোটরচালিত জয়েন্ট, যা দ্রুততর রিদম বাজাতে সক্ষম।
গবেষকদের,ভবিষ্যতে এই রোবটগুলোকে আরও মানবসদৃশ করে তোলার পরিকল্পনা আছে যেন সংগীত শেখানোর ক্ষেত্রেও তাদের কাজে লাগানো যায়। উ ছাও বলেন, ‘আমাদের দুই গিটারিস্ট ও বেইসিস্ট ফুল-ফ্রেট নিউম্যাটিক সিলিন্ডার দিয়ে কর্ড চাপ দেয়। এছাড়া, মানুষের মতো দেখতে কীবোর্ডিস্ট ও ড্রামারের অতিরিক্ত আঙুল ও হাত রয়েছে।
পরবর্তী ধাপে আমরা তাদের সবার জন্য মানুষের মতো হাত তৈরি করবো, যা দ্রুত ও ইন্টারঅ্যাকটিভ বাদ্যযন্ত্র বাজানোয় সাহায্য করবে। প্রতিটি রোবটকে এআই সংলাপের ক্ষমতা দেওয়া হবে। যেন তারা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলতে পারে।
সুলতানা দিনা/