বিদেশি শ্রমিক নিয়োগে ফের কলিং ভিসার কোটা উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া। এ ভিসায় দেশটি সাড়ে ২৪ লাখের বেশি শ্রমিক নেবে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল। মালয়েশিয়ার প্রধান প্রধান গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে। খবর বারনামা
খবরে বলা হয়েছে, তিনটি প্রধান ক্ষেত্র কৃষি, প্লানটেশন ও খনি ছাড়া ১০টি সাব-সেক্টরে পর্যায়ক্রমে এসব শ্রমিক নেওয়া হবে। প্রায় দুই বছর শ্রমিক নেওয়া বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার বিদেশি কর্মী নিয়োগ বিষয়ে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ১৪তম যৌথ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কলিং ভিসার কোটা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল সাংবাদিকদের জানান, কৃষি, বাগান ও খনি খাত ও ১০টি উপখাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে সার্ভিস সেক্টরের হোলসেল অ্যান্ড রিটেল, ল্যান্ড ওয়্যার হাউস, সিকিউরিটি গার্ডস, মেটাল অ্যান্ড স্ক্রাপ ম্যাটেরিয়ালস, রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, কার্গো এবং বিল্ডিং ক্লিনিং খাতে শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকছে।
তিনি আরও বলেন, নির্মাণ খাত অর্থাৎ কনস্ট্রাকশন সেক্টরে নিয়োগ কেবল সরকারি প্রকল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে। আর উৎপাদন (ম্যানুফ্যাকচার) খাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) এর আওতাধীন নতুন বিনিয়োগকে।
এবারের কলিং ভিসা/বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদনের সুযোগ শুধু খাতভিত্তিক সরকারি এজেন্সিগুলো পাবে। আগের মতো কোনো এজেন্ট বা সরাসরি নিয়োগকর্তা স্বাধীনভাবে আবেদন করতে পারবে না। আবেদন যাচাই বাছাই শেষে তা অনুমোদন করবে ফরেন ওয়ার্কার্স টেকনিকাল কমিটি এবং পরে জয়েন্ট (যৌথ) কমিটি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল জানান, এখন ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন শ্রমিকের কোটা চালু আছে, যা আগামী ৩১ ডিসেম্বরে পর্যন্ত বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, কলিং ভিসা হলো এক ধরনের কাজের ভিসা, যা সাধারণত মালয়েশিয়ার মতো দেশে কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ভিসার মাধ্যমে কর্মীরা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে এবং একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন। এটি একটি বৈধ কাজের ভিসা এবং এতে কর্মীর চুক্তি, বেতন, থাকা ও চিকিৎসা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।