মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সৃষ্টি করা শুল্কযুদ্ধ যখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েই চলেছে, তখন চীন তাদের অতীতের কৌশল বদলে ভারতের দিকে হাত বাড়াচ্ছে।
চীন ও ভারতের মধ্যে আবার সরাসরি ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল।
দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্য ঘাটতি ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি সফরে নিজেদের সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ওয়াশিংটনের চাপ সামাল দিতে দুই পক্ষই এখন পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা খুঁজছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা দুই দেশের মধ্যে আবার সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে প্রবাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, চীন ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাত– সার, বিরল খনিজ এবং টানেল বোরিং মেশিন সরবরাহে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানায় নয়াদিল্লি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবর।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট আবার চালু এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রবাহ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দুদেশের সীমান্তবর্তী তিনটি স্থানে সীমান্ত-বাণিজ্য আবার চালু হচ্ছে।
এর বাইরে, দুই পক্ষের আলোচনায় হিমালয় সীমান্তে সেনা প্রত্যাহার, সীমান্ত চিহ্নিতকরণের মতো বিষয়ও উঠে এসেছে বলে জানায় ভারত।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সীমান্ত বিষয়ক একটি যৌথ কার্যকরী কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল নিয়ে আলোচনা হবে এবং পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে দ্রুত আরেক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই পক্ষ ২০২৬ সালে আবার চীনে একটি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত পররাষ্ট্রনীতির ধকল সামলাতে সুকৌশলে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক দৃঢ়করণে মনোযোগ দিয়েছে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের জনস্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা জরুরি।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত ও চীনের মধ্যকার স্থিতিশীল, প্রত্যাশিত ও গঠনমূলক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, চলতি মাসের শেষে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ( সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও) সম্মেলনে অংশ নিতে চীন যাবেন নরেন্দ্র মোদি। প্রায় সাত বছর পর তিনি চীন সফর করবেন।
চীন ও ভারতের দ্বন্দ্ব বেশ পুরনো। অরুনাচলকে ভারত ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা দিলেও গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। অরুনাচলের দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে ১৯৬২ সাল-পরবর্তীতে প্রায়ই ভারত ও চীনের মধ্যে সংঘাত দেখা দেয়।
বিগত কয়েক বছরেও এই সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে বারবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্থলবেষ্টিত অরুনাচল নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যকার বিরোধের চিরস্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই এই উত্তেজনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কখন কী ঘটে তা বলা দুরূহ।
সুলতানা দিনা/