গাজার হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, বুধবার ভোর থেকে গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৫৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে উত্তরের অবরুদ্ধ গাজা সিটিতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েল গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিকে দখলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা সিটিতে ধ্বংসযজ্ঞ আরও তীব্র করেছে এবং প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে দক্ষিণে নির্দিষ্ট ‘‘কনসেনট্রেশন এলাকায়’’ জোরপূর্বক স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।
গাজা উপত্যকার অধিকাংশ এলাকা এখন ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে। এর মধ্যে গাজা সিটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ভারী যুদ্ধাস্ত্র ও অতিরিক্ত সেনা সমাবেশ করছে দখলদাররা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে গাজায় অন্তত ৬৩ হাজার ৭৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৫ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের শেবা এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা। গত নভেম্বর মাসে সমঝোতার পরও ইসরায়েল নিয়মিত দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে, যা তারা হিজবুল্লাহ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু বলেই দাবি করছে।
যুদ্ধ কার্যক্রম তীব্রতর করা হচ্ছে: ইসরায়েলি সেনাপ্রধান
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান স্টাফ এয়াল জামির বলেছেন, এই অঞ্চলে (গাজা সিটি) যুদ্ধ কার্যক্রম “তীব্রতর করা হচ্ছে”। এ সপ্তাহের শুরুতে তারা রিজার্ভ বাহিনী মোবিলাইজ করেছে। জামিরের মন্তব্য এসেছে এমন সময়, যখন গাজার পুরো শহর দখলের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিবাদে জড়িত বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
গত মাসে জামির সতর্ক করেছিলেন, নেতানিয়াহুর গাজা পুনর্দখলের চেষ্টা দেশটিকে “অন্ধকার গহ্বরে” ফেলবে। তিনি নেতানিয়াহুর পুরো গাজা দখলের সঙ্গে একমত নন এবং প্রস্তাবিত বন্দি বিনিময় করা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।
পশ্চিম তীরকে যুক্ত করার পরিকল্পনা উন্মোচন
ইসরায়েলের উগ্র-ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ফিলিস্তিনের মূল ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের প্রায় পুরো অংশ ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার একটি পরিকল্পনা উন্মোচন করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে এ পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্মোটরিচ পশ্চিম জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাটি উপস্থাপন করেন। তিনি প্রদর্শিত মানচিত্রে দেখিয়েছেন, প্রায় পুরো পশ্চিম তীর ইসরায়েলের অধীনে চলে আসবে, কেবল ছয়টি প্রধান ফিলিস্তিনি শহর—রামাল্লা ও নাবলুসসহ—বাকি থাকবে।
স্মোটরিচ বলেছেন, তিনি চেয়েছেন পশ্চিম তীরের এমন সব এলাকা ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করতে যেগুলোতে ফিলিস্তিনি বাসিন্দা কম কিন্তু আয়তন বেশি।
তিনি আরও বলেন, সার্বভৌমত্বের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে এজেন্ডা থেকে সরিয়ে দেওয়া। স্মোটরিচ নিজেও দখলকৃত এলাকায় অবৈধ বসতিতে বসবাস করেন। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/