কাতারের রাজধানী দোহায় ৯ সেপ্টেম্বর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল। চাঞ্চল্যকর এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন।
জানা গিয়েছে, এই হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দেশটির গোপন সংস্থা মোসাদ এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজন দেখা গিয়েছিল।
হামলা পরিচালনার পেছনে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণ থাকলেও, মোসাদ সেখানে স্থল অভিযান চালাতে রাজি হয়নি। এরপরই সৌদি আরবের ওপর দিয়ে দোহায় মিসাইল নিক্ষেপ করেছিল ইসরায়েল। প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দূরের এই হামলায় দোহায় প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কালো ধোঁয়া আকাশে উড়তে দেখা যায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
ইসরায়েলের বিমানবাহিনী এদিন ১৫টি যুদ্ধবিমান ও ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজার যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য হামাস নেতারা এসময় কাতারে অবস্থান করছিলেন। হামলার স্থান থেকে মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দূরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম নামের একটি আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, হামাসের সাম্প্রতিক আক্রমণে চার ইসরায়েলি সেনা নিহতের প্রতিশোধ হিসেবে তারা দোহায় হামাস নেতাদের এ বৈঠককে নিশানা করে ওই বিমান হামলা চালিয়েছে।
কিন্তু, মোসাদ আপত্তি জানায় কারণ তারা মনে করেছিল, এ ধরনের স্থল অভিযান চলমান ‘জিম্মি ফেরত আলোচনাকে’ বিপর্যস্ত করতে পারে এবং কাতার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও কয়েকজন মন্ত্রী হামলার পক্ষে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ, শিন বেতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ‘মেম’ এবং কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার হামলার পরিকল্পনায় সমর্থন দেন।
তবে, ইসরায়েলের সেনাপ্রধান এয়াল জামির, প্রধান ডেভিড বারনিয়া, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাহি হানেগবি এবং প্রতিরক্ষা মহলের অধিকাংশ সদস্য এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার পক্ষে ছিলেন। তাদের মতে, গাজায় বন্দী জিম্মিদের ফেরত আনার আলোচনাই এখন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের জিম্মি আলোচক দলের প্রধান নিতজান অ্যালনকে এই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কারণ অনুমান করা হয়েছিল তিনি এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করবেন।
মোসাদ প্রধান ডেভিড বারনিয়ার মতে, তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যার মতো গোপন স্থল অভিযান এবার চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতো। ফলে, ইসরাইল শেষ পর্যন্ত বিমান বাহিনী ব্যবহার করে হামলা চালায়, যা শিন বেতের কমান্ড সেন্টার থেকে তদারকি করা হয়।
এদিকে, হামলার পর হামাস জানায়, তাদের ভারপ্রাপ্ত নেতা খলিল আল-হাইয়াসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা জীবিত আছেন। তবে হামলায় খলিল আল-হাইয়ার ছেলে ও একজন কাতারি কর্মকর্তা সহ আরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
সুলতানা দিনা/