ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কুড়িগ্রামে ট্রাক উল্টে রেলপথে, ভোগান্তিতে ট্রেনের যাত্রীরা বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে দর্শকদের দুয়োধ্বনি হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৫৮ হাজার ৬৩৯ জন বাংলাদেশি জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’ লৌহজংয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা আদিতমারীতে শিশু নন্দিনী হত্যার দায় স্বীকার পাওনা টাকার বিরোধেই খুন হন আরিফ আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম ইরানের সঙ্গে চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই
Nagad desktop

কি হচ্ছে লাদাখে? জেন জি বিজেপির দপ্তরে আগুন দিলো কেন?

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮ এএম
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০৬ পিএম
কি হচ্ছে লাদাখে? জেন জি বিজেপির দপ্তরে আগুন দিলো কেন?
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অন্যতম শান্ত ও অনিন্দ্যসুন্দর পর্যটন এলাকা লাদাখ। ভারতের উত্তরতম প্রান্তে অবস্থিত দেশটির সবচেয়ে শান্ত ও নির্জন এই এলাকা এখন উত্তাল বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ আর কারফিউয়ের মতো উচ্চকিত পরিস্থিতিতে।

লাদাখ-চীন সীমান্তের গালওয়ান ভ্যালিতেই কয়েক বছর আগে ভারতের সঙ্গে চীনের সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘাত হলেও লাদাখের অভ্যন্তরে তার আঁচ আসেনি বললেই চলে। এমনকী পুরো ভারতে অপরাধের হার সবচেয়ে কম লাদাখে। এরকম ‘স্বর্গসম’ লাদাখে বুধবার (২৪  সেপ্টেম্বর) যা ঘটে গেলো, সেটির জন্য আসলে প্রস্তুত ছিল না কেউই।

এদিন, অশান্তি আর ক্ষোভ নিয়ে লাদাখের তরুণরা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং লাদাখ হিল কাউন্সিলের সদর দপ্তরে আগুন দেয়। রাস্তায় অজস্র গাড়ি ভাঙচুর করে ও লুঠপাট চালায়। এরপর, কারফিউ অমান্য করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এই ঘটনায় চারজনের প্রাণহানি হয়েছে, জখম হয়েছেন ৮০জনেরও বেশি–যার মধ্যে অর্ধেকই পুলিশ বাহিনীর সদস্য।

এমন পরিস্থিতি প্রশ্ন উঠেছে লাদাখের ‘জেন জি’ এভাবে ক্ষেপে উঠলো কেন?

তাহলে, বাংলাদেশ বা নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীই তাদের উৎসাহিত করেছে কি না? এর পেছনে অন্য কোনও শক্তির প্ররোচনা আছে কি? 

 

 ২০২০ সালে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনে সোনাম ওয়াংচুক এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
২০২০ সালে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনে সোনাম ওয়াংচুক এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত

আলাদা রাজ্যের মর্যাদা এবং ষষ্ঠ তফসিলের মর্যাদার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা বিজেপির দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, লাদাখের লেহে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী কঠোরভাবে কারফিউ বাস্তবায়ন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০ জনকে আটক করেছে। লেহে পুলিশের গুলিতে চার বিক্ষোভকারী নিহত এবং অনেকে আহত হওয়ার পর, অভূতপূর্ব এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
 
এসব সমাধানের জন্য নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে লেহে একজন 'বিশেষ দূত' পাঠিয়েছে। এর পাশাপাশি, লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্ত একটি নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন এবং শান্তি রক্ষার জন্য আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। বৈঠকে মুখ্য সচিব পবন কোতোয়াল, ডিজিপি এসডি সিং জামওয়াল এবং সেনাবাহিনী ও আইটিবিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, সরকার জোর দিয়ে বলেছে, উচ্চ-ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে লাদাখি গোষ্ঠীর সাথে আলোচনা ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। সেটি এই অঞ্চলের আকাঙ্ক্ষা পূরণের মঞ্চ হিসেবে এখনো সক্রিয়। 

এদিকে, এই অস্থিরতার মধ্যে বিক্ষোভের প্রধান মুখ হিসেবে বিবেচিত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার উস্কানিমূলক বক্তৃতার মাধ্যমে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

তাছাড়া, ওয়াংচুকের পরিচালিত একটি সংস্থার FCRA লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। FCRA - বা বিদেশী অবদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন - এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দুই মাস আগে দায়ের করা একটি মামলায়। 

পক্ষান্তরে, ওয়াংচুক পিটিআইকে জানান, সিবিআইয়ের একটি দল প্রায় ১০ দিন আগে "একটি আদেশ" নিয়ে এসেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে, তারা হিমালয়ান ইনস্টিটিউট অফ অল্টারনেটিভস লাদাখ (HIAL) -এ FCRA লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। 

এমনকী ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনার পর যে বিবৃতি দিয়েছে তাতেও আঙুল তোলা হয়েছে সুপরিচিত এই লাদাখি অ্যাক্টিভিস্টের দিকে। তিনিই নাকি তার ‘অনশন প্রতিবাদে’র সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং ‘আরব বসন্ত’ ও নেপালের জেন জি-দের প্রসঙ্গ টেনে এনে লাদাখি তরুণদের সহিংসতায় প্ররোচিত করেছেন।

অথচ, এই সহিংসতাকে ‘অর্থহীন’ বলে বর্ণনা করে ওয়াংচুক কিন্তু ইতোমধ্যে তার অনশন কর্মসূচিতে ইতি টেনেছেন।

প্রসঙ্গত, এই সোনাম ওয়াংচুকের আদলেই বলিউডের সুপারহিট ছবি ‘থ্রি ইডিয়টসে’র ‘র‌্যাঞ্চো' (ভূমিকায় আমির খান) চরিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন রাজ কুমার হিরানী। পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী হিসেবে গোটা ভারতে তিনি একটি শ্রদ্ধেয় নাম। কিন্তু এখন দেশের সরকার সরাসরি তার সঙ্গে সংঘাতে নামছে এবং হামলার জন্য পরোক্ষভাবে তাকেই দায়ী করা হচ্ছে।  

এরই মধ্যে খবর পাওয়া গিয়েছে, সোনাম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠানে বিদেশি অর্থায়ন কারা করছে এবং তাতে নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না, ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই সেটির তদন্ত শুরু করেছে। এমনকী চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি কেন পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেটাও।  

সোনাম ওয়াংচুকের প্রতিষ্ঠান ‘হিমালয়ান ইনস্টিটিইট অব অল্টারনেটিভস লাদাখ’ বা ‘হিয়াল’-কে একটি জমির বরাদ্দ দিয়েও লাদাখের প্রশাসন গত মাসে তা আচমকা বাতিল করে দেয়, যা নিয়ে ওই সময় তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। 

লাদাখের আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি দুটো।

প্রথমত, ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একটি পূর্ণ অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা পাওয়া। দ্বিতীয়ত, লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের (সিক্সথ শিডিউল) আওতায় নিয়ে আসা, যাতে আদিবাসীপ্রধান রাজ্য হিসেবে এটি তার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে পারে এবং ‘স্বশাসিত’ অঞ্চল হিসেবে কিছু বিশেষ অধিকার পায়।

বছরপাঁচেক আগেও লাদাখ ছিল জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের একটি অংশ। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে যখন সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করে ভারত সরকার কাশ্মিরের বিশেষ স্বীকৃতি কেড়ে নেয়, তখন কাশ্মীরের থেকে লাদাখকে বিচ্ছিন্ন করে সেটিকে একটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। 

এরপর গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরে ভোট হয়েছে এবং তারা তাদের একটি নিজস্ব বিধানসভাও পেয়েছে, কিন্তু লাদাখ রয়ে গেছে সেই আগের অবস্থাতেই।

লাদাখকে আলাদা রাজ্য ঘোষণার দাবিতে যে দুটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে লড়ছে, তারা হলো ‘লেহ অ্যাপেক্স বডি’ (ল্যাব) আর কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)। লাদাখের জনসংখ্যার অর্ধেক বৌদ্ধ আর অর্ধেক মুসলিম (প্রধানত শিয়া)। আর এই আন্দোলনে কিন্তু বৌদ্ধ ও শিয়ারা হাতে হাত মিলিয়েই লড়ছেন।

নিজেদের দাবি পূরণে সরকারকে চাপ দেওয়ার লক্ষ্যে ল্যাব’র জনা পনেরো সদস্য গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩৫ দিনের অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই আন্দোলন শুরু হওয়ার ঠিক দু’সপ্তাহের মাথায় (মঙ্গলবার ২৩ সেপ্টেম্বর) ল্যাব’র সদস্য দুজন অনশনকারীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। আর এর পর থেকেই তথাকথিত ‘জেন জি’-দের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ল্যাব তখন দাবি করে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবিলম্বে তাদের সঙ্গে রফা আলোচনায় বসতে হবে। দিল্লির তরফে সেই প্রস্তাবিত বৈঠকের তারিখ দেওয়া হয় ৬ অক্টোবর, মানে অনশনকারীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার বারো দিন পরে। এতেই আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা, তারা রাজপথে নেমে ভাঙচুর ও সহিংসতা শুরু করে দেয়।

কেন্দ্রীয় সরকার এখন বলছে, তারা ‘ল্যাব’র দুটো দাবি বিবেচনা করতে রাজি। যেগুলো হলো, লাদাখে আলাদা পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করা যাতে সেখানে কর্মসংস্থানের সুরাহা হয়, এবং লাদাখে লোকসভার পার্লামেন্টারি আসনের সংখ্যা একটা থেকে বাড়িয়ে দুটো করা। 

কিন্তু আলাদা অঙ্গরাজ্যের স্বীকৃতি এবং ষষ্ঠ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি নিয়ে কেন্দ্র একেবারেই নীরব–যা লাদাখি তরুণদের শাসক দল বিজেপির ওপর প্রবল ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

সুলতানা দিনা/

জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৩২ এএম
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমিই বস’
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জি৭ সম্মেলনে ইউক্রেনকে সমর্থন জানিয়ে বিশ্বনেতাদের বলেছেন, ‘আমিই বস’।

বুধবার (১৭ জুন) ট্রাম্প এবং জি৭ এর অন্যান্য নেতারা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের উন্নতির বিষয়টি স্বীকার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দেন।

১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ রিসোর্টে অনুষ্ঠিত জি৭ এর শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি মস্কোর সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের ক্রমবর্ধমান দর কষাকষির ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পকে বলেন, ইউক্রেনের পাল্টা লড়াই ফলপ্রসূ হচ্ছে এবং কোনো শান্তিচুক্তির শর্ত নির্ধারণ করার মতো অবস্থানে রাশিয়া নেই।

ট্রাম্প বলেন, এ যুদ্ধে ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়া বেশি সৈন্য হারাচ্ছে এবং মস্কো এই সংঘাতের ‘আক্রমণাত্মক’ পক্ষ।

২০২৫ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন ইউক্রেন বিষয়ে কোনো যৌথ অবস্থান ছাড়াই শেষ হয়েছিল। এবার ভার্সাই প্রাসাদে এক জমকালো নৈশভোজের আগে ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্প উভয়েই জি৭ শীর্ষ সম্মেলনকে সফল বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে নিজের আসনে বসতে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, জি৭ প্রধান ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি ‘আমিই বস’ মন্তব্যটি করেন।

থিওটোনিয়াস/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/