ইসরায়েলের আরোপিত নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সাধারণ মানুষের বেসামরিক ছোট নৌকা যদি পৌঁছে যেতে পারে তাহলে বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নৌবাহিনী কেন তা পারছে না?- এই প্রশ্ন তুলেছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।
সারা বিশ্ব থেকে মানবাধিকার কর্মীরা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (GSF) কয়েক ডজন নৌকায় ত্রাণ নিয়ে গাজার দিকে রওনা হওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানায়, বেসামরিক সহায়তা বহরের নৌকাগুলো যখন ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে কাছে গাজা পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন শক্তিশালী নৌবাহিনীসমৃদ্ধ রাষ্ট্রগুলো কেন একই কাজ করতে পারছে না— এই প্রশ্ন তুলেছেন ফ্রান্সেসকা আলবানিজ।
আলবানিজ বলেন, যখন “বিশ্বের সাধারণ নাগরিকেরা” ছোট ও কম সম্পদের নৌকায় করে গাজার ৬০ নটিক্যাল মাইল (১১১ কিলোমিটার) দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, তখন বিভিন্ন দেশের সুসজ্জিত নৌবাহিনী কেন সহজেই ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে পারছে না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “রাষ্ট্রগুলো কেন তাদের নৌবাহিনী দিয়ে অবরোধ ভাঙছে না? এ কেমন পৃথিবীতে আমরা বাস করছি? না, আমরা এটিকে মেনে নেব না।”
আলবানিজ আরও বলেন, “চলো, এগিয়ে চলো ফ্লোটিলা! নিরাপদে যাত্রা করো। সৃষ্টিকর্তা তোমাদের সহায় হোক।”
আল-জাজিরা বলছে, সারা বিশ্বের মানবাধিকার কর্মীরা বহু সংখ্যক নৌকায় ত্রাণ নিয়ে গাজার দিকে রওনা হয়েছিলেন। গত বুধবার গাজা উপকূল থেকে কিছু দূরে ৪৬ নটিক্যাল মাইল দূরে ১৩টি নৌকা আটক করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
এই ১৩টি নৌকা থেকে ৩৭ দেশের প্রায় ২০১ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে তারা। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার আটক যাত্রীদের মধ্যে স্পেন থেকেই ছিলেন ৩০ জন। এছাড়াও ইতালি থেকে ২২ জন, তুরস্ক থেকে ২১ জন এবং মালয়েশিয়া থেকে ১২ জন রয়েছেন।
তবে এখনো ৩০টি নৌকা গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
অভিযোগ রয়েছে, আটক নৌকাগুলোর লাইভ স্ট্রিমিং বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব মানবাধিকার কর্মীর নৌকাগুলোতে আছেন, তাদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো এবিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুলতানা দিনা/