ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে একযোগে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্পেন, ইতালি, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধ বন্ধ ও অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে গাজায় গণহত্যার বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ থেকে ব্রিটিশ পুলিশ শত শত বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
ব্রিটেনের মেট্রোপলিটন পুলিশ গত শনিবার বিকেলে শুরু হওয়া এই গ্রেপ্তার অভিযান সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিল।
এসময় পার্লামেন্ট স্কোয়ারে বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি" লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।
পলিটিকো একশন জানিয়েছে, লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে, নিষিদ্ধ গোষ্ঠীকে সমর্থন করার জন্য সন্ত্রাসবাদ আইনের অধীনে ৮৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং ৩৩ জনকে অন্যান্য অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন পুলিশ অফিসারদের উপর হামলার জন্যও রয়েছে।
আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের ওয়েস্টমিনস্টার প্রিজনার রিসেপশন সেন্টারে স্ক্রিনিং করা হয়।
অন্যদিকে, শনিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালের বড় শহরগুলোতে শনিবার একযোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
স্পেনের বার্সেলোনা ও মাদ্রিদে বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগেই। অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” নামে মানবিক সহায়তাবাহী নৌবহর আটকানোর পর রোম ও লিসবনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার ইতালিজুড়ে একদিনের সাধারণ ধর্মঘটে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। মূলত এটিই ছিল ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দেশটির অন্যতম বৃহত্তম গণআন্দোলন।
আল জাজিরা বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্পেনে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রকাশ্যে গাজা যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলেছেন এবং সব ইসরায়েলি দলকে আন্তর্জাতিক খেলাধুলা থেকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্সেলোনা সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, গত শনিবারের বিক্ষোভে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। শহরের প্রধান সড়ক পাসেইগ দে গ্রাসিয়া কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পরিবারসহ নানা বয়সের মানুষ অংশ নেন এই বিক্ষোভে।
লন্ডনের পাশাপাশি রোমেও বড় বিক্ষোভ হয়েছে। তিনটি ফিলিস্তিনি সংগঠন, স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও শিক্ষার্থীরা যৌথভাবে এ কর্মসূচি আয়োজন করে। পুলিশ বলছে, সেখানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে “প্যালেস্টাইন অ্যাকশন” নামের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেয় হাজারো মানুষ।
ম্যানচেস্টারের এক সিনাগগে বৃহস্পতিবারের প্রাণঘাতী হামলার পর পুলিশ বিক্ষোভ স্থগিতের অনুরোধ জানালেও আয়োজকেরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।
শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রীয় এলাকায় অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভ থেকে অন্তত ৯০০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মাটিতে বসে থাকা বিক্ষোভকারীরা যখন পোস্টারে স্লোগান লিখছিলেন, তখন পুলিশ তাদের সরিয়ে নিয়ে যায়।
সুলতানা দিনা/