ইউক্রেনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ চার বছর পূর্তির দিকে এগোতেই কিয়েভের পশ্চিমা মিত্ররা মস্কোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।
শুক্রবার রাতের এই হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দু’জন নিহত এবং নয়জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া মোট ৯টি ইস্কান্দার-এম ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬২টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মেয়র সামাজিক মাধ্যমে জানান, শহরটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ায় ভবন ও গাড়ির ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনকে তাদের সীমান্তের কাছে একটি বাঁধের উপর হামলার জন্য দায়ী করেছে। বেলগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ গ্লাদকভ জানিয়েছেন, বারবার হামলায় বাঁধটিতে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং তিনি বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাশিয়া আরও দাবি করেছে, রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রুশ আকাশসীমায় ১২১টি ইউক্রেনীয় ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
পশ্চিমা চাপ ও নতুন নিষেধাজ্ঞা
যুদ্ধ যখন চতুর্থ শীতকালে প্রবেশ করছে, তখন কিয়েভের পশ্চিমা মিত্ররা রাশিয়ার উপর চাপ বাড়িয়েছে। এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতি দুর্বল করার লক্ষ্যে নতুন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার শীর্ষ তেল কোম্পানি Rosneft ও Lukoil-এর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের এই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সব রুশ তেল কোম্পানি এবং ইউক্রেনের দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়াতে আরও সামরিক সহায়তার দাবি জানান। জেলেনস্কি বিশেষভাবে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।
তবে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা চাপে নতি স্বীকার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবন্ধুসুলভ কাজ’ বলে অভিহিত করে বলেন, কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন দেশ চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নেয় না।
অন্যদিকে, ইউক্রেনকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র করা এবং দখলকৃত সব অঞ্চল রাশিয়াকে দিতে হবে—পুতিনের এই অবস্থানে ইউক্রেন অনড় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, ২৫ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ট্রাম্পের পক্ষেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি আনা সম্ভব হয়নি। এমনকি যুদ্ধকে বর্তমান সীমান্ত রেখায় থামিয়ে দেওয়ার ট্রাম্পের এমন প্রস্তাবেও পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বৈঠক ভেস্তে গেছে।
তবে রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভ মনে করেন, কূটনৈতিক সমাধান কাছাকাছিই রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/