মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস হোয়াইট হাউসের জন্য আবারও লড়ার জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারিস বলেন, ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসে নিশ্চিতভাবেই একজন নারী প্রেসিডেন্ট থাকবেন এবং তিনি নিজে একদিন প্রেসিডেন্ট হতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘‘সম্ভবত’’।
হ্যারিস নিশ্চিত করেছেন যে তিনি আবারও শীর্ষ পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন। যদিও তিনি এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি, তবে জোর দিয়ে বলেছেন যে রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ আছে। সাবেক এ ভাইস-প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘আমার কাজ শেষ হয়নি। আমি আমার পুরো জীবন জনসেবার জন্য উৎসর্গ করেছি, এবং এটা আমার রক্তে মিশে আছে।’’
ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদে হলিউড অভিনেতা ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসনের চেয়েও পিছিয়ে থাকার বিষয়ে সাম্প্রতিক জরিপগুলোকে তিনি পাত্তা দেননি। হ্যারিস বলেন, ‘‘আমি যদি জরিপ শুনতাম, তাহলে আমি আমার প্রথম অফিস, বা দ্বিতীয় অফিসের জন্য লড়তাম না—আর অবশ্যই এখানে বসে থাকতাম না।’’
নিজের প্রাক্তন প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘স্বৈরাচার’ (tyrant) আখ্যা দিয়ে হ্যারিস বলেন, ট্রাম্প ফ্যাসিস্টের মতো আচরণ করবেন এবং একনায়কতান্ত্রিক সরকার চালাবেন বলে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তা প্রমাণিত হয়েছে।
হ্যারিস অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, যেমনটা তিনি নির্বাচনের আগে বলেছিলেন।
হ্যারিস মার্কিন ব্যবসায়িক নেতা এবং সংস্থাগুলোরও সমালোচনা করেন, যারা তার মতে, খুব সহজেই প্রেসিডেন্টের দাবির কাছে মাথা নত করেছে।
হ্যারিসের মন্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউস মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন বলেন, ‘‘কমলা হ্যারিস যখন বিপুল ব্যবধানে নির্বাচনে হেরেছিলেন, তখন তার ইঙ্গিতটা বোঝা উচিত ছিল। মার্কিন জনগণ তার ভিত্তিহীন মিথ্যা নিয়ে মাথা ঘামায় না, এবং এজন্য তিনি বিদেশিদের কাছে নিজের অভিযোগ বলে বেড়াচ্ছেন।’’
উল্লেখ্য, হ্যারিস সম্প্রতি তার সংক্ষিপ্ত নির্বাচনি প্রচারণার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ‘১০৭ ডেজ’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন। জো বাইডেন সরে যাওয়ার পর তিনি মাত্র ১০৭ দিন সময় পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়ার, যা তার পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/