যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ প্রথম মেয়াদে এক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুকে কেন্দ্র করে মস্কোর সঙ্গে হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন। রাশিয়া সম্প্রতি ওই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের ওপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা। তিনি বলছেন, মস্কোর গোপনে ওই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার বিষয়টি আগেরবারই ভালোভাবে নেননি ট্রাম্প।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, সিবিহার এ মন্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট হলো যে, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে ৯এম৭২৯ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। রয়টার্সকে এক সূত্র জানায়, গত আগস্ট থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে এই ক্ষেপণাস্ত্র ২৩ বার নিক্ষেপ করেছে। এ ছাড়া ২০২২ সালেও দুটি উৎক্ষেপণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
৯এম৭২৯ ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা শুরু হয় ২০১৯ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস’ (আইএনএফ) চুক্তি থেকে সরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, ওই ক্ষেপণাস্ত্র ৫০০ কিলোমিটারের সীমা ভেঙে আরও অনেক দূর পর্যন্ত উড়তে সক্ষম, যা তাদের মধ্যকার চুক্তির লঙ্ঘন করছে। রাশিয়া অবশ্য তখন তা অস্বীকার করেছিল।
মিসাইল থ্রেট নামের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থার তথ্যানুসারে, ওই ক্ষেপণাস্ত্র পারমাণবিক বা গতানুগতিক দুই ধরনের ওয়ারহেডই বহন করতে পারে এবং এটি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে।
এক সামরিক সূত্র জানায়, অক্টোবরে ইউক্রেনের দিকে রাশিয়ার নিক্ষেপ করা এক ৯এম৭২৯ ক্ষেপণাস্ত্র ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রভান্ডার যে আরও বিস্তৃত করেছে, তা তাদের ৯এম৭২৯ ব্যবহারের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট। একই সঙ্গে বিষয়টির মধ্য দিয়ে ইউরোপের দিকেও নতুন করে হুমকির ইঙ্গিত পাঠাচ্ছে মস্কো। পুরো বিষয়টি এমন একসময় হচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চাইছেন এবং রাশিয়াকে এ বিষয় নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।
প্যাসিফিক ফোরাম থিংক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো উইলিয়াম আলবার্কে বলেন, ‘আমার মনে হয় যে পুতিন এসব করে আসলে ইউক্রেন নিয়ে আলোচনার সময় চাপ বৃদ্ধি করতে চাইছেন। ৯এম৭২৯ মূলত ইউরোপের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল।’
সম্প্রতি রাশিয়া তাদের পারমাণবিক চালিত ক্রুজ মিসাইল ‘বুরেভেস্তনিক’ পরীক্ষা করেছে এবং বুধবার ঘোষণা দিয়েছে ‘পোসাইডন’ নামে একটি পরমাণু সক্ষমতার টর্পেডোরও সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
হোয়াইট হাউস রাশিয়ার ৯এম৭২৯ ব্যবহার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এর পেছনে যুক্তি হিসেবে বলেছেন, অন্য দেশগুলোয় এ ধরনের পরীক্ষা কর্মসূচি চলছে। তাদেরও একই মাত্রায় এটি করা উচিত।
আইএনএফ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর রাশিয়া ঘোষণা দিয়েছিল যে, তারা মাঝারিপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো বলে আসছে, রাশিয়া এরই মধ্যে কিছু ৯এম৭২৯ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।
গত চার আগস্ট রাশিয়া ইউক্রেনে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর বলেছে, তারা এখন আর আইএনএফ পরিসীমার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ মেনে চলছে না।
এদিকে রাশিয়া কবে ইউক্রেনে ৯এম৭২৯ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে, সে-সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ কিছু জানায়নি ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলছেন, ২১ আগস্ট ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে আলাস্কায় বৈঠক হওয়ার সপ্তাহখানেক পর দিয়ে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে রাশিয়া। সূত্র: রয়টার্স