ইতোমধ্যে যৌন কেলেঙ্কারিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের জেরে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু রাজকীয় সব পদপদবি হারিয়েছেন। রাজা তৃতীয় চার্লস আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে সমস্ত সামরিক পদবি এবং রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন।
এই অপমানজনক ঘটনার পর অ্যান্ড্রু এখন কেবল অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর নামে পরিচিত হবেন। প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার ডিউক অব ইয়র্কসহ সব রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং এডিনবার্গের ডিউক প্রিন্স ফিলিপের তৃতীয় সন্তান এবং দ্বিতীয় পুত্র এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই।
২০১৪ সালে, ভার্জিনিয়া গিফ্রে অভিযোগ করেন যে, ১৭ বছর বয়সে দোষী সাব্যস্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইন এবং ঘিসলাইন ম্যাক্সওয়েল তাকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর কাছে যৌন পাচার করেছিলেন।
এসবের মধ্যেই তার জীবনীকার আরও একটি ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এনেছেন। রয়্যাল ইতিহাসবিদ ও লেখক অ্যান্ড্রু লাউনি দাবি করেছেন, ব্রিটেনের করদাতাদের টাকায় থাইল্যান্ডে সরকারি সফরে গিয়ে অ্যান্ড্রু চার দিনের মধ্যে ৪০ জন যৌনকর্মীকে তার পাঁচতারা হোটেলে ডেকে এনেছিলেন।
লেখক অ্যান্ড্রু লাউনি ‘ডেইলি মেইল পডকাস্ট’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। নিউইয়র্ক পোস্টসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এই লেখক আরো দাবি করেন, ২০০১ সালে তার ভাই, তৎকালীন প্রিন্স চার্লস, অ্যান্ড্রুকে বাণিজ্য দূতের ভূমিকা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর এই ঘটনা ঘটেছিল। প্রিন্স চার্লস তাকে এই ভূমিকায় না পাঠাতে পরামর্শ দিয়েছিলেন কারণ তিনি জানতেন যে, অ্যান্ড্রু কেবল "মহিলাদের পেছনে ছুটবেন এবং গল্ফ খেলবেন।"
তিনি বলেন, "থাইল্যান্ডে এই ভ্রমণ ছিল - রাজার জন্মদিন উদযাপনের জন্য। সেখানে অ্যান্ড্রু তার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সেসময় তিনি দূতাবাসের পরিবর্তে পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার জন্য জোর দেন।"
জীবনীকার লাউনি অভিযোগ করেন, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে যখন অ্যান্ড্রু যুক্তরাজ্যের সরকারি বাণিজ্য দূত হিসেবে কাজ করতেন, তখন তিনি বহুবার ব্রিটিশ করদাতাদের অর্থে বিদেশ সফর করেছেন। এই সফরগুলোতে তিনি সব সময় দূতাবাসে থাকার পরিবর্তে বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে থাকতেই পছন্দ করতেন।
লাউনি বলেন, ‘২০০১ সালে অ্যান্ড্রুর বয়স ছিল ৪১, তাঁর “মধ্যবয়সের সংকট” চলছিল, এবং তিনি প্রচুর নারীর পেছনে ছুটতে শুরু করেন।’ লাউনি আরও যোগ করেন, অ্যান্ড্রু এই সরকারি সফরের অজুহাতে সব সময় দুই সপ্তাহের জন্য ‘ব্যক্তিগত সময়’ রাখতেন।
প্রসঙ্গত, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ভাবমূর্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা প্রকাশের পর। অ্যান্ড্রু বহু বছর আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি করলেও, পরে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, তিনি সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
এই বিতর্কের মধ্যেই এপস্টেইনের অন্যতম প্রধান অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া রবার্টস জিউফ্রের মরণোত্তর প্রকাশিত আত্মজীবনী সামনে আসে। জিউফ্রে, যিনি গত এপ্রিলে আত্মহত্যা করেন, তিনি দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন, কিশোরী থাকাকালীন অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌনকর্মে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
এসব তথ্য সামনে আসার পরই রাজপরিবারের ওপর চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। যদিও শুরু থেকেই প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
সুলতানা দিনা/