সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিনিধি দল হোয়াইট হাউজের ওভাল ওফিসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। ব্লিকের সংবাদ।
সুইস সংবাদপত্র ব্লিক জানায়, সুইজারল্যান্ডের নির্বাহীরা গত সপ্তাহে ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সাথে দেখা করে চলমান ৩৯% শুল্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় ট্রাম্পকে তারা রোলেক্সর একটি ডেস্ক ঘড়ি এবং বিশেষভাবে খোদাই করা একটি সোনার বার উপহার দেন বলে জানা গেছে।
সুইস প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন রোলেক্সের সিইও জিন-ফ্রেডেরিক ডুফোর, সুইস সোনার পরিশোধক কোম্পানি MKS PAMP-এর সিইও মারওয়ান শাকারচি, পার্টনার্স গ্রুপ, মার্কুরিয়া এবং রিচেমন্টের নির্বাহীরা।
ব্লিকের মতে, সফরকালে সুইস প্রতিনিধিদল ট্রাম্পকে তার লাইব্রেরির জন্য একটি রোলেক্স ঘড়ি এবং বিশেষভাবে খোদাই করা একটি সোনার বার উপহার দেয়। প্রতিনিধিদলটি আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেয়।
ওভাল অফিসের একটি ছবিতেও সোনার বারের পাশে একটি সোনার খেজুর ও একটি ডেস্ক ঘড়ি দেখা যায়। এ বছরের শুরুতে, রোলেক্স এরকম একটি সাবমেরিনার ডেট ডেস্ক ঘড়ি প্রকাশ করেছিল।
এদিকে,গত মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে সুইস ব্যবসায়ী নেতাদের এই সফরের পর প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে সুইস অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এমএসসি, রোলেক্স, পার্টনার্স গ্রুপ, মার্কুরিয়া এবং রিচেমন্টের নির্বাহীদের পাশাপাশি এমকেএস-এর কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল যা তারা সমর্থন করেছিল।
সুইস মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেডারেল কাউন্সিল প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার জন্য দায়ী এবং ফেডারেল কাউন্সিলর পারমেলিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সহ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন।
এদিকে, গত রবিবার সংবাদপত্র ব্লিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইজারল্যান্ডের পণ্যের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত ৩৯% শুল্ক অবসানের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
সূত্রের উদ্ধৃতি না দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, আসছে জানুয়ারিতে দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে উপস্থাপিত হতে যাওয়া একটি চুক্তির আগেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাণিজ্য অচলাবস্থা সমাধানের জন্য একটি চিঠি পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প এবং আগামী বছরের সুইস প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন, যিনি অর্থমন্ত্রীও, মার্কিন আমদানি শুল্কের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই শুল্কগুলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ইতোমধ্যেই সম্মত হওয়া ১৫% শুল্কের অনুরূপ হবে।
সুলতানা দিনা/