রাশিয়া শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে চারজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তথ্যটি জানান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর বলছে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো, অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ও বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া তথ্যানুসারে, রাশিয়ার বাহিনী ৪৩০টি ড্রোন এবং ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে হামলায়। হিসেবে এটি ইউক্রেনের রাজধানীতে সাম্প্রতিক সময়ে হয়ে যাওয়া অন্যতম বৃহত্তম হামলা। জেলেনস্কি বলেছেন, কিয়েভও দূরপাল্লার হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি মিত্রদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হলেও ধ্বংসাবশেষ ও আগুনে শহরের ৯টি জেলায় উঁচু ভবন, একটি স্কুল, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, এটি ‘অত্যন্ত নৃশংস হামলা’। বর্তমানে শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ বহু আহতের খবর পাওয়া গেছে এবং চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
আনাস্তাসিয়া নামে কিয়েভের ২৯ বছর বয়সী এক বাসিন্দা বলেন, তার অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটি যখন হামলার কবলে পড়ে, তখন আতঙ্কে তিনি বুঝতে পারেননি আগে কী করবেন। নিজেকে বাঁচাবেন, সন্তানকে নিরাপদে নেবেন, না কি চিৎকার করে সাহায্য চাইছে এমন মানুষের দিকে দৌড়াবেন।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎশ্চিকো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছে। যার মধ্যে দুই শিশু আছে। হাসপাতালে ভর্তি নয়জনের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বাও রয়েছেন।
ছবিতে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুনের শিখা উঠছে, আর বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। অনেককেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
শহরের ঘর গরম রাখার ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হামলায়। এক জেলায় তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় হামলার পর দিয়ে। তবে জরুরি মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র। আংশিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া গেছে কেন্দ্রীয় কিয়েভ, দক্ষিণের ওডেসা এবং পূর্বের দোনেৎস্ক অঞ্চলে।
কিয়েভের বাইরের আঞ্চলিক গভর্নর বলেন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে, যার মধ্যে সাত বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। এসব আক্রমণে বেশ কিছু স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন এসব হামলার জবাব দিচ্ছে দূরপাল্লার সক্ষমতা দিয়ে। বিশ্বকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাশিয়ার এসব প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। তারা চেষ্টা করছে দেশটির তেল শোধনাগার, ডিপো ও পাইপলাইন লক্ষ্য করে আঘাত হানতে এবং এর মধ্য দিয়ে মস্কোর যুদ্ধ তহবিলের বড় উৎসটিকে দুর্বল করে দিতে।
রয়টার্সকে দুই শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর তীরের নোভোরসিস্ক বন্দর শুক্রবার তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স