যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আফ্রিকায় চীনের প্রভাব বাড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতির বিকল্প হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে বেইজিং।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা আজ শনিবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের সম্মেলনে যোগ দেবে না। কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বিতর্কিত দাবি যে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন শ্বেতাঙ্গদের খারাপ আচরণ করছে।
ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, জোহানেসবার্গে এই সম্মেলন আয়োজন করা ‘পুরোপুরি লজ্জাজনক’। এর জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, ‘এই মন্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। বয়কটের রাজনীতি কাজ করে না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা, তারা সেটা নিজেরাই ছেড়ে দিচ্ছে।’
গত শুক্রবার সকালে আবার যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে পারে এমন গুঞ্জনও ছড়ায়। ফলে অনেকেই ধারণা করেন, ট্রাম্প অবস্থান কিছুটা নরম করেছেন হয়তো।
এদিকে, এই টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংকে পাঠিয়েছেন। ৭২ বছর বয়সী শি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশ সফর কমিয়ে দিয়েছেন এবং তার প্রধান দূতদেরই বেশি দায়িত্ব দিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি যে চীনের জন্য সুযোগ তা তুলে ধরে বাকনেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ঝিকুন ঝু আল-জাজিরাকে বলেন, ‘মার্কিন অনুপস্থিতিতে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোই সম্মেলনের কেন্দ্রবিন্দু হবে। অন্য দেশগুলো তাদের দিকেই নেতৃত্বের জন্য তাকাবে।’
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প না থাকায় বেইজিংয়ের বক্তব্য ও আচরণের ওপর নজর বাড়লেও এর মানে এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ জিং গু বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি চীনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নেতা বানিয়ে দেয় না। তবে এটি চীনের সামনে নিজেকে আরও স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সেই ধারণাকে জোরদার করে যে, যুক্তরাষ্ট্র বহুপক্ষীয়তা থেকে সরে আসছে এবং বৈশ্বিক সমস্যার যৌথ ব্যবস্থাপনা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে চীন নিজেকে আরও পূর্বানুমানযোগ্য, স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরতে পারে।’ সূত্র: আল-জাজিরা