ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নিউজিল্যান্ডকে বিপক্ষে মিশরের ৩-১ গোলে জয়, ম্যাচে ব্যবহৃত হলো ‘কনকাশন সাবস্টিটিউট’ বর্ষা এলেই জলজট স্মার্টফোনের নতুন সেনসেশন ‘হেলিও ৪৬’ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা মালেশিয়ায় শ্রমবাজার খোলার আশা আছে জটিলতাও নায়ক হতে প্রস্তুত এমবাপ্পে সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ রোনালদোকে পাস দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়দেররা কি বাধ্য? বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি মহাতারকা আজও মেসি জাদুর অপেক্ষায় বিশ্বকাপের মঞ্চে এমবাপ্পের ‘সেঞ্চুরি’, অনন্য এক ইতিহাসের সামনে ফরাসি তারকা নারী নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুয়েটের দিপা নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালান জিয়াউল পালানোর সময় ছাদ থেকে পড়ে আ. লীগ নেতা নিহত ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে ইরানই বিজয়ী ঐতিহ্যের স্থাপনা ‘গৌরীপুর লজ’ এখন ব্যাংকারদের গেস্ট হাউস নিউজিল্যান্ডের হয়ে প্রথম গোল করা কে এই ফিন সারম্যান? ২২ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ২২ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল রূপবতী সাদা মথ গাছফড়িং ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুতদের নতুন চাকরি মিলছে না আর্জেন্টিনার সামনে এবার ইউরোপীয় পরীক্ষা, অঘটনের স্বপ্ন অস্ট্রিয়ার জয়ের খোঁজে জর্ডান-আলজেরিয়া ফিলাডেলফিয়ায় ফ্রান্স ও ইরাকের অসম লড়াই ২২ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি আরেকটি ঐতিহাসিক রাতের অপেক্ষায় কুরাসাও আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার জয়ের সম্ভাবনা কত, জানাল সুপারকম্পিউটার ৩৩ ম্যাচেই ১০০ গোল! হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে বিয়েলসার ক্ষোভ

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারতকে ‘নিরবচ্ছিন্ন’ জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভারতকে ‘নিরবচ্ছিন্ন’ জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া
শুক্রবার নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে তাদের যৌথ সংবাদ বিবৃতির পর দুই নেতা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও ভারতকে “নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ” করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দুই নেতা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুনভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে মোদিকে উদ্দেশ্য করে পুতিন বলেন, “রাশিয়া ভারতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় তেল, গ্যাস, কয়লা—সবকিছুর নির্ভরযোগ্য জোগানদাতা। আমরা ভারতের দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।”

প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নয়াদিল্লির ‘আত্মনির্ভরতা’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুই দেশ যৌথভাবে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনে জোর দেবে।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটি পুতিনের প্রথম ভারত সফর। একই সময়ে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কবিধি নিয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। রুশ জ্বালানি কেনার কারণে ভারতের বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ওয়াশিংটন ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

মোদি পুতিনের “অটল প্রতিশ্রুতির” জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “ভারত–রাশিয়ার অংশীদারত্বে জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।” তিনি পারমাণবিক জ্বালানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করলেও রুশ তেল আমদানির বিষয়ে নির্দিষ্ট মন্তব্য করেননি।

মোদি জানান, দুই দেশ ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচিতে একমত হয়েছে, যা বাণিজ্যকে “বহুমুখী, ভারসাম্যপূর্ণ ও টেকসই করবে”। এই বৈঠকে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, নৌপরিবহন ও রাসায়নিক খাতসহ বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি বিনিময় হয়েছে।

রাশিয়া ইতোমধ্যেই ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী। দুই দেশের বাণিজ্য ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। মস্কো চাইছে ২০৩০ সালের মধ্যে এ বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে।

ব্যস্ত সময়সূচি

শুক্রবারের কর্মসূচি শুরু হয় রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক ও গার্ড অব অনারের মাধ্যমে। এরপর পুতিন রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে দুই নেতা হায়দরাবাদ হাউস কমপ্লেক্সে বৈঠক করেন।

পুতিনের এবারের সফরে “জাঁকজমকের অভাব ছিল না”। বৃহস্পতিবার মোদি বিমানবন্দরে আলিঙ্গন দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান এবং বাসভবনে ব্যক্তিগত নৈশভোজও আয়োজন করেন। পুনিয়ার ভাষায়, “অনেক আলিঙ্গন ও হাত মেলানোর দৃশ্য দেখা গেছে।” 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পুতিন-মোদি একই গাড়িতে করে সফর করেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নয়াদিল্লি ও মস্কো এই বার্তা দিতেই আগ্রহী যে পশ্চিমা চাপ সত্ত্বেও পুতিনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিচ্ছিন্ন নয় বলে তারা মনে করে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় শিশুদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের অভিযোগে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) পুতিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ভারত আইসিসির সদস্য নয়, ফলে পুতিন গ্রেপ্তারের ভীতি ছাড়াই দেশটিতে সফর করতে পেরেছেন। শুক্রবার রাত ৯টায় রাশিয়ার উদ্দেশে তার রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জটিল সমীকরণ

রাশিয়া ও ভারতের কৌশলগত অংশীদারত্বের বয়স ২৫ বছর। কিন্তু ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কারণে দুই দেশের বার্ষিক পারস্পরিক সফরের ঐতিহ্যও ব্যাহত হয়।

পশ্চিমা দেশগুলো রুশ তেল আমদানি কমানোর সঙ্গে সঙ্গে ভারত বরং ক্রয় বাড়ায়। এতে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা আগস্টে দ্বিগুণ হয়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতিতে চাপ দিতে ভারতের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নেন।

ভারত এসব শুল্কের মধ্যেও রুশ তেল কেনা চালিয়ে যায়। কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে নভেম্বরে, যখন রোসনেফট ও লুকয়েলসহ রুশ তেল কোম্পানিগুলোর ওপর ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভারত তার মোট তেল আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে অন্য দেশের কোম্পানিগুলোও এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্য করলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন।

নয়াদিল্লি বলছে, পশ্চিমারা নিজেদের স্বার্থে এখনও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে; তাই ভারতকে পৃথক করে শাস্তি দেওয়া অন্যায়। ভারতের উদ্দেশ্যে এক সাক্ষাৎকারে পুতিনও একই কথা বলেছেন। 

তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্র নিজেও আমাদের কাছ থেকে পারমাণবিক জ্বালানি কিনছে। যদি তারা কিনতে পারে, তবে ভারতেরও একই অধিকার থাকা উচিত।”

অস্ত্র বিক্রি ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

পুতিন আশা করছেন ভারত আরও রুশ অস্ত্র কিনবে। মস্কো দিল্লিকে অতিরিক্ত এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সু-৫৭ স্টেলথ যুদ্ধ বিমান বিক্রি করতে চায়। তবে এ নিয়ে কোনো চুক্তি হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।

এ বৈঠকের কয়েকদিন আগেই পুতিন মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা করেন, যেখানে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা হয়। উভয় পক্ষই অগ্রগতির কথা বললেও কোনো সমাধান হয়নি। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

ভারত বরাবরই যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়াকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থেকেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো: আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানই একমাত্র পথ। সূত্র: আল জাজিরা

মাহফুজ/

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে: জেডি ভ্যান্স
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আঞ্চলিক শান্তি এবং সমৃদ্ধি বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল রবিবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রথম দফার আলোচনা শেষে তিনি এ কথা জানান।

বৈঠকে ভ্যান্স ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রধান চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতির জন্য তাদের ওপর দোষারোপ করলেও একই সঙ্গে জানান, গত কয়েক ঘণ্টার আলোচনায় উভয় পক্ষের মধ্যে চমৎকার অগ্রগতি হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানে গতকাল সুইজারল্যান্ডে সরাসরি আলোচনা শুরু করে। গত সপ্তাহে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের কর্মকর্তারা এ আলোচনায় বসেছেন। চুক্তি অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এতে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গত শনিবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় তেহরান। যদিও সামুদ্রিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রবিবারও কয়েকটি জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করেছে।

আলোচনা শুরু হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, লেবাননে তেহরানের ‘অত্যধিক অর্থায়ন করা প্রক্সি বাহিনীকে’ অবিলম্বে থামাতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার আগে বলেন, ওয়াশিংটন পারমাণবিক ইস্যু ও লেবানন প্রশ্নে অগ্রগতি আশা করছে। অন্যদিকে ইরান জানায়, বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপরই চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা নির্ভর করবে।

সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্টে ভ্যান্স বলেন, ট্রাম্প আলোচকদের নতুনভাবে সম্পর্ক শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরান যদি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তনে প্রস্তুত। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সব সামরিক অভিযান বন্ধসহ বিদ্যমান প্রতিশ্রুতি কার্যকর হওয়ার ওপরই চূড়ান্ত চুক্তি নির্ভর করছে। মূলত এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘিরেই এই আলোচনা।

মার্কিন প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্স ছাড়াও রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

আলোচনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও যোগ দিয়েছেন।

প্রাথমিক চুক্তির আওতায় ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর সামরিক অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়। পাশাপাশি ইরানের পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে ইরানই বিজয়ী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
৯২ শতাংশ ইসরায়েলি মনে করে ইরানই বিজয়ী
ক্যাপশন: গত ১৩ জুন জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার ফলাফল নিয়ে ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ, হতাশা ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েও যুদ্ধ ক্ষেত্রের লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েলের ব্যর্থতা এখন দেশের ভেতরেই বড় ধরনের সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে। আগাম ইনস্টিটিউট ও হিব্রু ইউনিভার্সিটির যৌথ জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ইসরায়েলিদের ৯২ দশমিক ১ শতাংশই মনে করেন, এই দীর্ঘ সংঘাত ও কূটনৈতিক দর-কষাকষিতে শেষ পর্যন্ত ইরানই প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। গত ১৭ থেকে ২০ জুন এই জরিপ পরিচালিত হয় এবং গতকাল রবিবার টাইমস অব ইসরায়েল এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

সামরিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব ও ব্যর্থতা

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের আগ্রাসী সামরিক কৌশল কেবল আঞ্চলিক ব্যবস্থাকেই অস্থিতিশীল করেনি, বরং দেশটির নিজের নিরাপত্তাকেও চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। হিব্রু ইউনিভার্সিটির জরিপে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। এতে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সামরিক অভিযান ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো এসব হামলার নেতিবাচক প্রভাব এখন খোদ ইসরায়েলিরাই টের পাচ্ছেন।

যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে ৮৬ শতাংশ নাগরিক চরম নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের মাধ্যমে শান্তি বা স্থায়িত্ব আনার যে দাবি তেল আবিব করেছিল, তা যে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ছিল, জনগণের এই ক্ষোভ তারই প্রমাণ। এ ছাড়া ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ইসরায়েল হয় তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, অথবা বড়জোর আংশিক সফল হয়েছে। নির্বিচারে হামলা চালিয়ে বেসামরিক মানুষের জানমালের ক্ষতি করা ছাড়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) কৌশলগত কোনো সুবিধাই আদায় করতে পারেনি।

নেতানিয়াহুর মিথ্যাচার ও নেতৃত্বের সংকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বরাবরই দাবি করে আসছিলেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশটির অস্তিত্বগত হুমকি চিরতরে দূর করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তার এই রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচার এখন ঘরের মাঠেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক নেতানিয়াহুর এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তা বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার তীব্র সমালোচনা করে ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কর্মকৌশল অত্যন্ত দুর্বল ছিল অথবা তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করতে নেতানিয়াহু যেভাবে ইসরায়েলি অর্থনীতি ও জননিরাপত্তাকে বাজি ধরেছেন, তা দেশের ভেতরেই তাকে চরম বিতর্কিত ও সমালোচিত করে তুলেছে।

হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি

এদিকে চলমান ব্যর্থতার মধ্যেও ইসরায়েলি সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে উগ্র সামরিক আগ্রাসনের মানসিকতা কাটেনি। জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ইসরায়েলি আবারও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পক্ষে মত দিয়েছে। এমনকি এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বা বিরোধ তৈরি হলেও তারা সেই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। সমালোচকরা বলছেন, মার্কিন সমর্থনের ওপর অন্ধভাবে নির্ভরশীল হয়েও ইসরায়েলের এই বেপরোয়া মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যকে আরও এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

জরিপের নির্ভরযোগ্যতা

আগাম ইনস্টিটিউট ও হিব্রু ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই জরিপটিতে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩ হাজার ৬৪৪ জন ইসরায়েলির মতামত নেওয়া হয়। জনসংখ্যার সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এর নমুনা নির্বাচন করা হয়েছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, ৯৯ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতার মাত্রায় জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির হার মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, এএফপি, হিন্দুস্তান টাইমস 

যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।

 রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বার্গেনস্টকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এক সপ্তাহ আগে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা।

 দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন।

এসএন/

যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায়

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায়
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে।

এই আলোচনায় অংশ নিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল, আয়োজক দেশ সুইজারল্যান্ড এবং মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করে বলেছে, এই বৈঠকগুলো সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) অন্তর্ভুক্ত সব বিষয় নিয়ে একটি বিস্তৃত ও স্থায়ী চুক্তি সম্পন্ন করার পথ তৈরি করবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষায়িত কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সই করা একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে এগিয়ে নিতেই মূলত সুইজারল্যান্ডে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আব্বাস আরাঘচি।

এদিকে এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ভ্যান্সের সাথে বৈঠক করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুসারে, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি চতুর্পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পিএম
গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বিপ্লব দেব
ছবি: সংগৃহীত

ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমান বিজেপি সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি সম্প্রতি নতুন জীবনে পা রেখেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

খবরে বলা হয়, নববধূ দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বাসিন্দা এবং অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত। তবে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। 

আগামী ২৪ জুন আগরতলার একটি অভিজাত হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিপ্লব দেব ও তার স্ত্রী নীতি দেবের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের অবসানের পর তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। বিপ্লব দেব ও নীতি দেবের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ত্রিপুরার গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার রাজধরনগর গ্রামে জন্ম নেওয়া বিপ্লব দেব ছাত্রজীবন শেষে দীর্ঘ সময় দিল্লিতে কাটিয়েছেন। পরে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

২০১৬ সালে তিনি ত্রিপুরা বিজেপির সভাপতি হন এবং তার নেতৃত্বেই ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এরপর তিনি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর তিনি রাজ্যসভার সদস্য হন। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ত্রিপুরা পশ্চিম আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে লোকসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বিজেপির বিভিন্ন সাংগঠনিক ও জাতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন।

দ্বিতীয় বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিপ্লব দেব বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল থাকলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ত্রিপুরাবাসী। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস