মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন গত সোমবার জানিয়েছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তাচুক্তি অকাস (AUKUS)–কে অনুমোদন দিয়েছে, যার আওতায় অস্ট্রেলিয়া আগামী ১৫ বছরের মধ্যে অন্তত তিনটি ভার্জিনিয়া-শ্রেণির (Virginia Class) পারমাণবিক সাবমেরিন পাবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এর আগে জানায়, তারা তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময়ে স্বাক্ষরিত ২০২১ সালের এই পারমাণবিক শক্তিচালিত আক্রমণাত্মক সাবমেরিন চুক্তিটি পুনরায় পর্যালোচনা করছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তর পাঁচ মাস ধরে চলা এ পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। এতে অকাস চুক্তিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এটি “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ,” বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাও’ নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই পর্যালোচনা অকুসকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর সুযোগগুলোর চিহ্ন দিয়েছে।”
মার্কিন কংগ্রেসম্যান জো কর্টনি—যিনি হাউসের সি-পাওয়ার বিষয়ক উপকমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট—বলেন, পর্যালোচনা শেষ হওয়ায় নিশ্চিত হলো যে অকাসের কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, “এখন লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, ২০২১ সালের অকাস চুক্তি তিন দেশেরই সরকার পরিবর্তনের পরও অটল রয়েছে।”
কর্টনি কংগ্রেসে অকাসের জোরালো সমর্থক এবং তিনি কানেকটিকাটের সেই জেলার প্রতিনিধি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সাবমেরিন নির্মাণ কারখানা অবস্থিত।
অকাস চুক্তির লক্ষ্য হলো অস্ট্রেলিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক সাবমেরিন সরবরাহ করা এবং যুদ্ধপ্রযুক্তি উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা।
এই সাবমেরিনগুলো, যার বিক্রি শুরু হবে ২০৩২ সালে, অস্ট্রেলিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষ করে চীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ-পাল্লার আঘাত সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু।
চুক্তির খরচ আগামী ৩০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ২৩৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজস্ব সাবমেরিন নির্মাণ প্রযুক্তিও পাবে দেশটি।
অস্ট্রেলিয়া ২০২১ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে একটি বহু-বিলিয়ন ডলারের ডিজেলচালিত সাবমেরিন কেনার চুক্তি বাতিল করে অকাসে যোগ দিলে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল।
ভার্জিনিয়া-শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম আধুনিক ও বহুমুখী আক্রমণাত্মক সাবমেরিন। এগুলো অত্যাধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহার করে, যা শত্রুপক্ষের রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন করে তোলে।
সাবমেরিনগুলো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, টর্পেডো ও বিশেষ অভিযান বাহিনী পরিবহনের সক্ষমতা রাখে। গভীর সাগরে দীর্ঘসময় টহল দিতে পারে এবং পারমাণবিক রিয়্যাক্টর থাকার কারণে জ্বালানি পুনরায় নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। চাইলে এ সাবমেরিন থেকে পরমাণু অস্ত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে।
পানির নিচে নজরদারি, গোয়েন্দা সংগ্রহ ও শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানায় এদের দক্ষতা উল্লেখযোগ্য। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তি প্রদর্শনের জন্য এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভরসা। এ উন্নত সাবমেরিনগুলো বিশ্বজুড়ে মার্কিন নৌ আধিপত্যের অন্যতম অস্ত্র। সূত্র: এএফপি
মাহফুজ/