ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত
Nagad desktop

পাকিস্তানে বাংলাদেশের জঙ্গি পাইপলাইন!

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:২৮ এএম
পাকিস্তানে বাংলাদেশের জঙ্গি পাইপলাইন!
ছবি: দ্য ডন থেকে সংগৃহীত

ফয়সাল হোসেন তার পরিবারকে বলেছিলেন যে তিনি দুবাইয়ে কাজ খুঁজে পেয়েছেন। তার বাড়ি মাদারীপুর। কিন্তু সত্যিটা ছিল, ২২ বছর বয়সী এই যুবক তখন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) হয়ে লড়াই করছিলেন। টিটিপি শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় একটি অভিযানে ফয়সাল হোসেনকে হত্যা করে। তার ভাই আরমান গণমাধ্যমে প্রচারিত মৃতদেহের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।

টিটিপির হয়ে লড়াই করার সময় নিহত অন্তত চার বাংলাদেশির মধ্যে একজন হলেন ফয়সাল হোসেন, যাকে পাকিস্তান রাষ্ট্র ফিতনা আল-খাওয়ারিজ বলে অভিহিত করে।

বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট জানিয়েছে, আরও দুই ডজনেরও বেশি বাংলাদেশি বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছেন। তারা টিটিপি এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের হয়ে লড়াই করছেন। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতাটি প্রথম ২০২৩ সালে লক্ষ করা যায় এবং ওই ঘটনা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করে তোলে।

আরেক বাংলাদেশি ২২ বছর বয়সী জুবায়ের আহমেদ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে নিহত হয়েছেন তিনি। প্রতিবেদক বলেন, ‘এপ্রিলের শেষে আমি একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন পেয়েছিলাম। তার মা আলেয়া আক্তার আমাদের জানান, আমার ছেলে আর নেই।’ 

বলা হয়ে থাকে যে কয়েক ডজন বাংলাদেশি তরুণ তেহরিক-ই-তালেবানের মতো চরমপন্থি পাকিস্তানি সংগঠনের হয়ে লড়াই করছে। তাদের নিয়োগ বাংলাদেশের জন্য একটি বিপজ্জনক নতুন রপ্তানি। পাশাপাশি দক্ষিণ এশীয় জঙ্গিবাদের একটি বিভ্রান্তিকর পরিবর্তনের লক্ষণ। 

রতন ঢালীর ভাগ্য
তৃতীয় ব্যক্তি ২৯ বছর বয়সী রতন ঢালীর ভাগ্য এখনো স্পষ্ট নয়। নভেম্বরের গোড়ার দিকে সিটিটিসি তার পরিবারকে জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বরের অভিযানে তিনি নিহত হয়েছেন। কিন্তু ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে ঢালী নামে একজনকে জীবিত দাবি করা হয়েছে।

সিটিটিসির পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) রওশন সাদিয়া আফরোজ বলেন, ‘কর্মকর্তারা ভিডিওটি তদন্ত করে দেখছেন। এটি ভুয়া বলে মনে করেছেন সংশ্লিষ্টরা।’ 

পাকিস্তানে টিটিপির একজন মুখপাত্র ইমরান হায়দার, যিনি প্রথমে বলেছিলেন যে ঢালী মারা গেছেন। তিনি এখন তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে বলেছেন, ঢালী নিখোঁজ থাকায় তাকে মৃত ধরে নেওয়া হয়েছিল।

ঢালীর পরিবারের জন্য এই অনিশ্চয়তা একধরনের যন্ত্রণা। তার বাবা আনোয়ার ঢালী কয়েক দিন আগে বলেন, ‘পুলিশ আমাকে জানিয়েছে যে আমার ছেলে পাকিস্তানে নিহত হয়েছে। এখন একমাত্র আল্লাহ্‌ই জানেন আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না।’

রতন ঢালী তার পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল। ঠিক ঈদের দিন। তিনি তার মাকে ভিডিও কল করেছিলেন। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন, তিনি দিল্লিতে আছেন এবং খুব শিগগির দুবাই ভ্রমণ করবেন। রতনের মা সেলিনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের শেষ কথোপকথন। আমি আর কখনো আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলিনি।’

২৯ বছর বয়সী রতন ঢালী দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। চলতি বছর পাকিস্তানে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

যেভাবে জঙ্গি নিয়োগ হয়
২০২৪ সালের মার্চ মাসে ফয়সাল হোসেন তার বাবাকে বলেন, তিনি দুবাই যেতে চান। কিন্তু তার পরিবার এতে রাজি হয়নি। কারণ তাদের কাছে ফয়সালকে দুবাই পাঠানোর টাকা ছিল না। কয়েক দিন পর অবশ্য ফয়সাল হোসেন তাদের জানান, তিনি সেখানে যাওয়ার একটি উপায় খুঁজে পেয়েছেন। ফয়সাল জানান, ‘একজন বড় ভাই আমাকে সেখানে নিয়ে যাবেন এবং সব খরচ বহন করবেন। আমার বেতন হবে ৩৫ হাজার টাকা। দুবাই পৌঁছানোর পর আমার বেতন থেকে তাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।’ 

ফয়সাল হোসেন যখন দুবাইয়ের উদ্দেশে বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছিলেন তখন তার বড় ভাই আরমান তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি ভিসা পেয়েছেন কি না। ফয়সাল উত্তর দিয়েছিলেন, ‘তার ভিসা ভারত থেকে হবে।’ আরমান বলেন, ‘আমি তখন এটা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’ 

আরমান বলেন, ‘ফয়সাল মাসে একবার বা দুবার আমাদের ফোন করে বলতেন, তিনি দুবাইয়ে কাজ করছেন। আমরা সর্বশেষ এই বছরের জুনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। তার পর থেকে বারবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

২০২৪ সালের মার্চ মাসে ঢালী তার বাবাকে বলেছিলেন, তিনি দুবাই যাচ্ছেন। ঢালীর বাবা আনোয়ার জানান, তার ছেলে তাদের জানিয়েছিল যে তার (ঢালী) বসের দুবাইয়ে একটি ক্লিনিক আছে। তিনিও চান রতন সেখানে কাজ করুক। প্রায় ২০ দিন পর ঢালী তার মাকে ফোন করে জানান, তিনি ভারতে আছেন এবং দুবাই যাবেন। 

এসপি আফরোজ বলেন, সত্যিটা হচ্ছে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ফয়সাল এবং রতন ঢালী ভারতে প্রবেশ করেন। সেখান থেকে তারা অবৈধভাবে আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানে যান। সেখানে গিয়ে তারা টিটিপিতে যোগ দেন।

রতন ঢালী ও ফয়সাল হোসেন ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় অবস্থিত রফ রফ হিজামা সেন্টার নামে একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন। প্রতিবেদক যখন ক্লিনিকটি খুঁজতে যান, তখন এটি আর ওই ভবনে ছিল না। একজন বাসিন্দা জানান, কয়েক মাস আগে এটি স্থানান্তর করা হয়েছিল।

জুবায়ের আহমেদ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি প্রথমে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। ওমরাহ সম্পন্ন করার পর তিনি আর দেশে ফিরে আসেননি। সিটিটিসি জানিয়েছে, জুবায়ের সৌদি আরব থেকে আইনিভাবে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন। 

জুবায়েরের মা আলেয়া আক্তার বলেন, ‘ওমরাহ পালনের পর জুবায়ের বলেছিল সে আপাতত দেশে ফিরবে না। সে আল্লাহর বাণী প্রচার করবে।’ চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানে ২২ বছর বয়সী জুবায়ের আহমেদকে হত্যা করা হয়। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তিন জঙ্গির নিয়োগের মধ্যে কিছু মিল আছে। তারা তিনজনই সাধারণ পরিবার থেকে এসেছে।

রতন ঢালী ঢাকার একটি স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তার বাবা অটোরিকশা চালান এবং তার মা একজন গৃহিণী। ফয়সাল হোসেন ঢাকার উত্তরার একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছেন। তার বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি কর্মচারী। তার বড় ভাই ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করেন। জুবায়ের আহমেদ ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন। 

তবে নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, তাদের ছেলেদের বিভ্রান্ত করে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। তারা ন্যায়বিচার দাবি করছেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রতনের বাবা বলেন, ‘আমার একটাই দাবি। যারা আমার ছেলেকে এই পথে নিয়ে গেছে তাদের শাস্তি চাই। ফয়সালের ভাই আরমানও একই দাবি করেন। তার ভাষ্য, ‘আমি বাংলাদেশ সরকারকে এই চক্রের উৎসে তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার অনুরোধ করছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে এবং তাদের সন্তানকে হারাতে না হয়।’

দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতিতে বিশেষজ্ঞ এবং অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী গবেষক মুবাশ্বার হাসান বলছেন, জঙ্গি নিয়োগকারীরা প্রায়ই গ্রামীণ তরুণদের নিশানা করে, যারা বিদেশে চাকরি খুঁজছেন অথবা আর্থিকভাবে সংকটে আছেন। ‘নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকেরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মধ্যে থাকেন। এ কারণে তাদের সহজেই অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্ররোচিত করা যায়।
 
তবে পাকিস্তানে টিটিপির মুখপাত্র ইমরান হায়দার দাবি করেছেন, যুবকরা জানত যে তারা কী করতে যাচ্ছেন। কাউকে জোর করে বা প্রতারণা করে এখানে আনা হয়নি। ইমরান হায়দার নিজেকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রকৌশলী বলে দাবি করেন। সিটিটিসির মতে, তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ছেড়েছিলেন।

এসপি আফরোজের মতে, টিটিপির বাইরেও বাংলাদেশিরা পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আমরা তাদের মধ্যে তিনটি সংগঠনকে চিহ্নিত করেছি, সেগুলো হচ্ছে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান), টিএলপি (তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান) এবং আইএমপি (ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান)।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বেশির ভাগই টিটিপিতে যোগ দিয়েছে। ২০০৭ সালে বাইতুল্লাহ মেহসুদ এই জঙ্গি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর বর্তমান নেতা হলেন নূর ওয়ালি মেহসুদ, যিনি প্রকাশ্যে আফগান তালেবানের প্রতি আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

কতসংখ্যক বাংলাদেশি পাকিস্তানে যাচ্ছেন, তা অনুমান করা এখনো কঠিন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবণতা বেড়েছে। টিটিপির হায়দার বলেন, ‘আমি আপনাকে বলতে বাধ্য নই, কতজন বাংলাদেশি টিটিপির হয়ে লড়াই করছেন।’

বাংলাদেশের পুলিশ বলছে, তারা পাকিস্তানে থাকা কয়েক ডজন লোককে শনাক্ত করেছে। এসপি আফরোজ বলেন, ‘আমরা ২৫ থেকে ৩০ জনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি, যারা বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছে এবং যুদ্ধ করছে।’

বিশেষজ্ঞ এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আরও বলেন, এই নিয়োগের বেশির ভাগই অনলাইনে হয় এবং প্রায়ই ধর্মীয় অনুশাসনের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের দলে ভেড়ানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জঙ্গি সংগঠনগুলোতে বাংলাদেশি তরুণদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা এখন অনলাইনে এই কাজগুলো করছে। এতে ঝুঁকি অনেকটা কম।’

বাংলাদেশ পুলিশ বলছে, তারা এই ধরনের কার্যকলাপ দমন করছে এবং কড়া নজর রাখছে। এসপি আফরোজ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা কমপক্ষে ১০০ জনকে চিহ্নিত করেছি, যারা জঙ্গিবাদে জড়িত হওয়ার জন্য পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। আমরা তাদের থামিয়ে দিয়েছি।’ তথ্যসূত্র: ডন

চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি
ডেভিড হকনি। ছবি: এআই

কিংবদন্তি ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ডেভিড হকনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

শুক্রবার (১২ জুন) তার প্রচার কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার লন্ডনে নিজ বাড়িতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।

১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারে জন্ম নেওয়া হকনির সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ছিল বৈচিত্র্যে ভরপুর। তিনি ১৯৬০-এর দশকে বিশ্ব কাঁপানো 'পপ আর্ট' আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সারথী ছিলেন।

ব্রাডফোর্ড স্কুল অব আর্ট ও রয়্যাল কলেজ অব আর্ট থেকে স্বর্ণপদকসহ শিক্ষা শেষ করা হকনি তরুণ বয়সেই চেনা সামাজিক নিয়ম ভেঙে নিজের সমকামী পরিচয় প্রকাশ করেন এবং চিত্রশিল্পে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে হকনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান। সেখানকার প্রাণোচ্ছল জীবন, বিশেষ করে সুইমিং পুলের পটভূমিতে আঁকা চিত্রকর্মের জন্য তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পান।

পানির ওপর আলোর খেলা এবং ম্যাট অ্যাক্রিলিক পেইন্টের জাদুকরী ব্যবহারে তিনি ক্যানভাসে এক স্বপ্নময় জগৎ তৈরি করেছিলেন।
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কের এক নিলামে তার বিখ্যাত পেইন্টিং 'পোর্ট্রেট অব অ্যান আর্টিস্ট (পুল উইথ টু ফিগারস)' প্রায় ৭ কোটি পাউন্ডে বিক্রি হয়, যা সে সময় কোনও জীবিত শিল্পীর ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল।

চিত্রাঙ্কন ছাড়াও ফটোগ্রাফি ও স্টেজ ডিজাইনে দক্ষ হকনি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অগ্রগামী ছিলেন। ২০১০ সালে আইপ্যাড বাজারে আসার পর থেকেই তিনি ডিজিটাল মাধ্যমে ছবি আঁকা শুরু করেন এবং অ্যাপ প্রস্তুতকারীদের সাথে মিলে বিশেষ অ্যাপ তৈরি করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিয়মিত ছবি আঁকা ও প্রদর্শনী চালিয়ে যাওয়া এই শিল্পী দীর্ঘদিনের সঙ্গী জঁ-পিয়ের গনকালভেস দে লিমা, দুই ভাই এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এসএন/

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি
শাহবাজ শরিফ। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি ‘চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত’ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এই প্রথম শান্তি প্রতিষ্ঠার এত কাছাকাছি পৌঁছালো দুই দেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করতে পাকিস্তান এখন উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি আসেনি, যা এখন এসেছে।

উভয় দেশের কর্মকর্তারা চুক্তির বিবরণ নিয়ে গণমাধ্যমের জল্পনা-কল্পনার বিষয়ে সতর্ক করার পরই শাহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও চুক্তিটি ‘খুবই কাছাকাছি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।


কী আছে ইরান চুক্তিতে, যা সই করতে প্রস্তুত ট্রাম্প
গণমাধ্যমের জল্পনা নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বার্তায় বলেন, চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে গণমাধ্যমের যেকোনও ধরনের অনুমান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কোনও ইরানি অবরুদ্ধ সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করার বিষয়টি অস্বীকার করে লিখেছেন, এই চুক্তিটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা নিশ্চিত করে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের উদ্বেগগুলো অগ্রাধিকার পাবে। ইরান যদি তাদের বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করে, তবেই অর্থনৈতিক সুবিধা তাদের এবং সমগ্র অঞ্চলে প্রবাহিত হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে পুরো অঞ্চলের চিত্র বদলে দেওয়ার এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বার্তাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ পুনরায় পোস্ট করেছেন। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা চুক্তির সাতটি সম্ভাব্য মূল পয়েন্টের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে কোনও নতুন ছাড় দেওয়া হয়নি এবং ইরানের কিছু সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করা হবে।

এসএন/

মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
মমতা ব্যানার্জি। ছবি: সংগৃহীত

ফের আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত ২ জুন বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চ-এর আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে আগেই একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কলকাতায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের সময় কলকাতার ধর্মতলার সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

মমতার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন তুষার কান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন। অভিযোগপত্রে ধর্মতলার ওই সভায় মমতার করা বিতর্কিত মন্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ মার্চ কলকাতার ধর্মতলায় দলীয় সমাবেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের নাম উহ্য রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন—

“আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি, তখন এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে, তখন ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে ১২টা বাজিয়ে দেবে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে ভুল বুঝবেন না।”

এই মন্তব্যের ভিডিও ভোটের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, মুখ্যমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই ঘটনার ভিত্তিতে নেতাজি নগর থানায় মামলাটি করা হলেও শুক্রবার(১২ জুন) কলকাতার মামলাটি হেয়ার স্ট্রিট থানা-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে করা অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর অধীনে ১৯৬(১), ৩৫১(২) এবং ৩৫২ ধারায় মামলা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে— বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ বা শত্রুতা তৈরির চেষ্টা, ভীতি প্রদর্শন এবং শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে প্ররোচনার মতো বিষয়।

অভিযোগকারীর দাবি, ওই বক্তব্যের ফলে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তার আরও দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ধরনের বক্তব্যের যোগ রয়েছে।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। এখন নজর থাকবে, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় কি না। তবে এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এসএন/

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার বিষয়টি ‘এতটা কাছে আর কখনো আসেনি’ বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তেহরান চুক্তির শর্তগুলো গণমাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছে-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পরপরই এই মন্তব্য করলেন তিনি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেন, ‘চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত গণমাধ্যমের উচিত এর বিষয়বস্তু নিয়ে যেকোনো ধরনের জল্পনা থেকে বিরত থাকা।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তাদের দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে চুক্তির সব বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির শর্তগুলোকে ‘মিথ্যা’ ও ‘সত্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে আরাঘচির এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির এমন বক্তব্য নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ট্রাম্প এই পোস্টটি শেয়ার করে পরোক্ষভাবে আরাঘচির সেই আহ্বানের সঙ্গেই সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর আগে ট্রাম্প নিজে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত চুক্তির কিছু শর্তকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন দুপক্ষই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছে।

এসএন/

ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ড্রোন অনুপ্রবেশ মামলায় ইউন সুক-ইওলকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Yoon Suk Yeol-কে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক ড্রোন পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

শুক্রবার (১২জুন) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট রায়ে বলেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ে ড্রোন অনুপ্রবেশের পরিকল্পনায় ইউন শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। আদালত তাকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও শত্রুপক্ষকে সহায়তার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।

তবে ইউন সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার আইনজীবীরা দাবি করেন, তিনি ওই অভিযানের নির্দেশ দেননি বা পরে অনুমোদনও দেননি। তাদের মতে, এটি ছিল উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত পেরিয়ে আবর্জনাভর্তি বেলুন পাঠানোর জবাব, যার সঙ্গে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার কোনো সম্পর্ক নেই।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে সামরিক আইন জারির চেষ্টার ঘটনায় বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে অভিশংসন বহাল রেখে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে আদালত। এরপর অনুষ্ঠিত আগাম নির্বাচনে জয়ী হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট Lee Jae Myung।

বর্তমানে হেফাজতে থাকা ইউন এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/