ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার নববর্ষের ভাষণে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার শান্তিচুক্তিটি এখন ‘৯০ শতাংশ প্রস্তুত’। ভাষণে তিনি মূলত মস্কোর পূর্ণমাত্রার আক্রমণের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধের চিত্রটিই তুলে ধরেন।
জেলেনস্কি বলেন, প্রায় চার বছরের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের চুক্তির বাকি ১০ শতাংশই ‘শান্তির ভাগ্য এবং ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে’।
অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার নববর্ষের ভাষণে সেনাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘‘আমরা তোমাদের ওপর এবং আমাদের বিজয়ের ওপর বিশ্বাস রাখি।’’
গতকাল বুধবার মস্কো দাবি করেছে যে, উত্তর-পশ্চিম রাশিয়ার ভালদাই হ্রদের তীরে পুতিনের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে ইউক্রেন ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভ এই অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করেছে। রাশিয়া কিছু মানচিত্র ও ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে যে, ইউক্রেনের সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চল থেকে এই ড্রোনগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, এই ঘটনার পর তারা চলমান শান্তি আলোচনার বিষয়ে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করবে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা ক্যালাস এই দাবিকে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্য রাশিয়ার একটি ‘ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জেলেনস্কির শর্ত ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি
প্রায় ২০ মিনিটের ভাষণে জেলেনস্কি স্পষ্ট করে বলেন, ইউক্রেন ‘যেকোনো মূল্যে’ শান্তি চায় না। তিনি বলেন, ‘‘আমরা যুদ্ধের সমাপ্তি চাই—ইউক্রেনের সমাপ্তি নয়।’’ তিনি উল্লেখ করেন যে, ডনবাস অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করার অর্থ হবে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া।
উল্লেখ্য, রাশিয়া পুরো ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ চায়, যা বর্তমানে আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি ফ্লোরিডায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি জানান, ওয়াশিংটন ১৫ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এটি কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেন, ‘‘দুর্বল চুক্তিতে স্বাক্ষর কেবল যুদ্ধকে উস্কে দেয়।’’
পুতিন ও কিম জং উনের বার্তা
পুতিনের ভাষণ ছিল তুলনামূলক ছোট। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে সেনাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তার নববর্ষের বার্তায় মস্কোর সাথে ‘অজেয় মিত্রতার’ প্রশংসা করেছেন এবং বিদেশে যুদ্ধরত সেনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার মতে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সহায়তায় হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৬০০ জন নিহত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জেলেনস্কি চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে শান্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, আগামী ৬ জানুয়ারি প্যারিসে মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনের সুরক্ষা এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেবে।
এদিকে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারাও যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে যেকোনো চুক্তির জন্য রাশিয়ার সম্মতি প্রয়োজন, যা পুতিনের বাসভবনে কথিত ড্রোন হামলার ঘটনার পর আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/