বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। জালিয়াতির একাধিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীরাও এই কড়াকড়ির আওতায় পড়বেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় ভর্তি হওয়া মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর এক-তৃতীয়াংশই ছিলেন এই চার দেশের নাগরিক।
দেশটির ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের সাবেক উপসচিব আবুল রিজভি বলেন, এখন থেকে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাইয়ের মান ‘লেভেল-টু’ থেকে বাড়িয়ে ‘লেভেল-থ্রি’ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্রের বরাতে নিউজ ডটকম ডটএইউ জানায়, ‘২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে এই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে।’
ওই মুখপাত্র বলেন, ‘এই পরিবর্তনের ফলে জালিয়াতির বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে যাচাই করা যাবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত সুবিধা নিশ্চিত রাখা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সরকার চায়, শিক্ষার্থীরা এখানে অবস্থানকালে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থী ভিসা কর্মসূচিতে একটি সঠিক কাঠামো থাকা জরুরি, যাতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে অর্থ ব্যয় করে সেরা মানের শিক্ষা নিতে পারেন।’
গত মাসে ভারত সফর করেন অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল। সফর শেষে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরই ভিসা প্রক্রিয়ায় এই কড়াকড়ির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অস্ট্রেলিয়ার ‘সিম্পলিফাইড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেইমওয়ার্ক’ (এসএসভিএফ) অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে একাধিক সূচকের ভিত্তিতে একটি ‘এভিডেন্স লেভেল’ নির্ধারণ করা হয়। এই সূচকের মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি বা অন্যান্য কারণে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে থেকে যাওয়ার প্রবণতা এবং পরবর্তী সময়ে শরণার্থী হিসেবে আবেদন করার হার। এ ক্ষেত্রে ‘ইএল থ্রি’ রেটিংয়ের অর্থ হলো, ভিসা আবেদনকারী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষাগত ইতিহাসের বিস্তারিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। সূত্র: নিউজ ডটকম ডটএইউ