ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির পর রোনালদোর কীর্তি পর্তুগালের একাদশে রোনালদো ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন লায়লা বাউলের পাশে দাঁড়াল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠান হবে জুনের শেষ সপ্তাহে ঝিনাইদহে মোটরসাইকেল চোরচক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া হবে, ভারত সীমান্তেও পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যারা বলে ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ তাদের থেকে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী রংপুরের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় ৬৬৫ নারী নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত শেষ যাত্রা জানাজায়, মাঝপথেই থেমে গেল জীবন সাজেকে বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
Nagad desktop

ইরানের বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম
ইরানের বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তবে, দেশটির বিরুদ্ধে খুবই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধাবার (১৪ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইরানে সহিংস দমন-পীড়নে এ পর্যন্ত ২,৪০০-এর বেশি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইরানে আটক হওয়া ২৬ বছর বয়সী এরফান সুলতানির আত্মীয়রা বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন যে, বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও-এর একজন প্রতিনিধি বিবিসিকে বলেছেন যে, তারা কখনো কোনো মামলা এত দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় এগোতে দেখেননি।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি তাদের ফাঁসিতে ঝোলায়, তবে আপনারা অনেক কিছু দেখতে পাবেন... তারা এমন কিছু করলে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

সুলতানির এক আত্মীয় বিবিসি পার্সিয়ানকে জানান, ইরানের একটি আদালত মাত্র দুই দিনের মধ্যে অত্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়ায় এই মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আশঙ্কা করছেন যে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সুলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

হেনগাও-এর প্রতিনিধি আউইয়ার শেখি বুধবার বিবিসির ‘রেডিও ৪ টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সুলতানিকে আটক করার মাধ্যমে ইরানি সরকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার এবং আর কোনো বিক্ষোভ হতে না দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

শেখি আরও জানান, সুলতানির বোন- যিনি নিজে একজন আইনজীবী- এই মামলায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে যে এ বিষয়ে আর কিছু করার নেই।

ইরানে সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের শেষ মুহূর্তে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়। শেখি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ পরিবারকে এরফানের মৃত্যুদণ্ডের আগে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথা বললেও, গ্রেপ্তারের পর থেকে তাকে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

ইরানের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছে, তবে এর জন্য তিনি সন্ত্রাসীদের দায়ী করেছেন।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, তিনি মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকে অংশ নিয়ে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং বিক্ষোভের প্রকৃত নিহতের সংখ্যা জানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউসে ফেরার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। তিনি জানান যে, সংখ্যাটি পাওয়ার পর আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও তারা এ পর্যন্ত ১২ জন শিশুসহ ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আরও জানায় যে, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫০ জন ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বুধবার তেহরানে নিরাপত্তা বাহিনীর ১০০-এর বেশি সদস্য এবং তাদের ভাষায় আরও কিছু শহিদদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষকে বড় মূল্য দিতে হবে এবং তিনি জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও যোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। 

বিক্ষোভ দমনের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামরিক ও অন্যান্য বিকল্প নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছেন। ইতোমধ্যে তিনি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

ইরান সরকার এর জবাবে অভিযোগ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই কৌশল আগেও ব্যর্থ হয়েছে।

মুদ্রার মান কমে যাওয়া এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহর ও জনপদে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল। দ্রুতই এটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয় এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই এখন ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করলে কর্তৃপক্ষ মারাত্মক শক্তি প্রয়োগ করে এবং ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই অস্থিরতায় এ পর্যন্ত ১৮,৪৩৪ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতো বিবিসিরও ইরানের ভেতর থেকে রিপোর্ট করার সুযোগ নেই, তাই রক্তক্ষয়ের প্রকৃত মাত্রা পরিমাপ করা কঠিন।

তবে রবিবার অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের কাহরিজাক ফরেনসিক সেন্টারে মানুষ তাদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ খুঁজছে। বিবিসি ওই ফুটেজে অন্তত ১৮০টি চাদরে মোড়ানো মৃতদেহ এবং বডি ব্যাগ গণনা করেছে। সোমবার প্রকাশিত অন্য একটি ভিডিওতে সেই একই কেন্দ্রে আরও প্রায় ৫০টি মৃতদেহ দেখা গেছে।

সোমবার একজন অ্যাক্টিভিস্ট বিবিসি পার্সিয়ানকে বলেন, আমার এক বন্ধু তার ভাইয়ের খোঁজে সেখানে (কাহরিজাক) গিয়েছিল এবং সে নিজের দুঃখের কথা ভুলে গেছে। তারা প্রতিটি এলাকা থেকে মৃতদেহ স্তূপ করে রেখেছে। আপনারা সহিংসতার মাত্রার ভগ্নাংশও জানেন না।

লন্ডনভিত্তিক ইরানি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহরাম কোর্দাস্টি মঙ্গলবার বিবিসির ‘নিউজডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘তেহরানের এক সহকর্মীর কাছ থেকে তিনি সর্বশেষ যে বার্তাটি পেয়েছেন তাতে লেখা ছিল- অধিকাংশ হাসপাতাল এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আমাদের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে।’

তিনি আরও জানান, দুই-তিনটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তারা শত শত আহত বা নিহত মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন।
কাস্পিয়ান সাগরের তীরের শহর রাশত-এর একজন বাসিন্দা শহরটিকে এখন চেনা যাচ্ছে না বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গায় আগুন জ্বলছে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক ইরানি কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা ও দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দেওয়া অগ্রহণযোগ্য। সূত্র: বিবিসি

সুমন/

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/

জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে ভারত—হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে মূলত বাঙালি মুসলমানদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, ঠেলে পাঠানো ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে বাংলাদশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)। এতে করে বহু পরিবার দুই দেশের সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো লাইন) আটকা পড়েছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গত পহেলা জুন থেকে বিএসএফের ২১টি পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ঠেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে যে বিজেপি সরকারের "ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট" নীতির আওতায় শত শত “বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে” আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে "ফিরে যেতে" বাধ্য করা হয়েছে।

সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক মীনাকশী গাঙ্গুলী বলেন, "মৌলিক মানবাধিকারকে উপেক্ষা করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নির্মমভাবে পরিবারগুলোকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে"।

তিনি আরও বলেন যে ভারত সরকারের উচিত এই জোরপূর্বক বহিষ্কার বন্ধ করা, আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা, নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা ও মুসলমানদের প্রতি বৈরিতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ করা।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, তারা এমন নয়জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ রাতের অন্ধকারে লোকজনকে সীমান্তে এনে কাঁটাতারের বেড়ার কাটা অংশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি প্রবেশে বাধা দিলে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের আবার ফিরিয়ে নেয়।

এসএন/

ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন
ছবি: সংগৃহীত

ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজের মাধ্যমে জি-৭ সম্মেলনের সমাপ্তি টানছেন আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বুধবার আলোচনা করবেন জি-৭ নেতারা। সম্মেলনের শেষ দিনে এ বিষয়টিই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সবশেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেবেন ইমানুয়েল মাখোঁ।

বুধবারের (১৭ জুন) আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। জি-৭-এর কয়েকটি ইউরোপীয় সদস্য দেশ অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের তিন দিনের এ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইরান যুদ্ধ অবসানে ট্রাম্পের চুক্তি ও ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ।

এদিন নেতাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অপেন এআই’র প্রধান  স্যাম অল্টম্যান, অ্যানথ্রোপিক-এর প্রধান ড্যারিও অমোদেই ও ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান মিস্ট্রাল এআই এসএএস-এর আর্থার মেনশ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। ফ্রান্সও একই ধরণের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

সম্মেলন শুরুর আগে, ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মাখোঁ বলেন, জি-৭ আলোচনায় কীভাবে ‘সাইবার নিরাপত্তা উন্নত করা যায় এবং আমাদের শিশু ও গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখা যায়’ এ বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

বুধবার বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে। সাতটি দেশই মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন বিষয়ে যৌথ চূড়ান্ত বিবৃতিতে একমত হওয়ার চেষ্টা করছে। এরপর গ্রিনিচ সময় দুপুর ১টা থেকে নেতারা পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

হ্রদ তীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র এভিয়ানে অনুষ্ঠিত পুরো সম্মেলন জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ট্রাম্প। ফরাসি কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট যে তিনি পুরো সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, তিনি কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন মাঝপথে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে মাখোঁ সম্মেলন শেষে বুধবার বিকেলে প্যারিসের বাইরে অবস্থিত ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। 

তার ভাষায়, ফ্রান্সের ‘সূর্য রাজা’ চতুর্দশ লুইয়ের প্রাসাদ ভার্সাই ‘সোনার প্রলেপ নয়’, বরং ‘আসল জিনিস।’ অন্যদিকে, ট্রাম্পকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন এমন সমালোচনা এড়াতে মাখোঁ আগেই বলেছেন, ভার্সাইয়ের এ আয়োজন কোনো ‘গালা ডিনার’ নয়।

ইরান ও ইউক্রেন ইস্যুতে আলোচনা
সম্মেলনে ইরান অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যে চুক্তি শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হওয়ার কথা, সে বিষয়ে তাকে নানা প্রশ্ন করতে আগ্রহী মিত্র দেশগুলো।

ট্রাম্প বলেন, চুক্তির পর ইরানে বিনিয়োগ করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো বাধ্যবাধকতা’ নেই। মূল লক্ষ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। আর যদি তা করে, তাহলে দেশটির ওপর ‘ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসবে’। ইউক্রেন প্রসঙ্গে ট্রাম্প মস্কোর প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। 

তিনি বলেন, রাশিয়ার উচিত ‘একটি সমঝোতায় পৌঁছানো।’ একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, স্থগিত রাখা নিষেধাজ্ঞাগুলো আবারও কার্যকর করতে পারে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতিও তুলনামূলক সমালোচনামুখর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, লেবাননের বিষয়ে নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তার মতে, সেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ হয়ে গেছে’। সূত্র: এএফপি

নাঈম/