পাকিস্তানের অশান্ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে সপ্তাহব্যাপী এক বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এই অভিযানে ২১৬ জন সশস্ত্র বিদ্রোহীকে হত্যার দাবি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ) প্রদেশের শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে যে হামলা চালিয়েছিল, তার জবাবে এই অভিযান শুরু হয়।
‘অপারেশন রাদ-উল-ফিতনা-১’ (বিশৃঙ্খলা মোকাবিলা) নামক এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে সন্ত্রাসী স্লিপার সেলগুলো নির্মূল করা।
গত ২৯ জানুয়ারি এই অভিযান শুরু হয়। এর আগে বিএলএ তাদের এ যাবৎকালের অন্যতম বড় সমন্বিত হামলায় বেলুচিস্তানের বিভিন্ন স্কুল, ব্যাংক, বাজার এবং সামরিক স্থাপনায় আক্রমণ চালিয়েছিল।
পাকিস্তান সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, ২১৬ জন বিদ্রোহী নিহতের ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর নেতৃত্ব, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং তাদের অপারেশনাল সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অভিযানে বিদেশি উৎস থেকে আসা প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, বিদ্রোহীরা সুসংগঠিত বাহ্যিক লজিস্টিক সহায়তা পেয়ে আসছিল।
সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সময় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ২২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
বেলুচিস্তানে কয়েক দশক ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। সম্পদসমৃদ্ধ এই প্রদেশটি কয়লা, সোনা, তামা এবং গ্যাসে ভরপুর হলেও স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বঞ্চিত করে এসব সম্পদ শোষণ করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং মাঝে মাঝে চীনা নাগরিকদের ওপরও হামলা চালায়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কয়েকশ যাত্রীসহ একটি ট্রেনে হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে দুই দিনের অবরোধে বহু মানুষের মৃত্যু হয়।
গত রবিবার বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি সংবাদিকদের বলেন, ‘‘গত ১২ মাসে বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনী ৭০০-এর বেশি সন্ত্রাসীকে খতম করেছে, যার মধ্যে গত দুই দিনেই মারা পড়েছে ৭০ জন।’’
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তান এই বিদ্রোহীদের মদত দিচ্ছে। তবে দিল্লি এবং কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/