ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। আগামী বুধবার (১১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কাছে সাতটি কঠোর ও সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরবেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-এর বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সামনে যে দাবিগুলো পেশ করবেন তার মধ্যে রয়েছে:
১. ইরানের সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করা
২. ইরানের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা
৩. ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতাও পুরোপুরি বন্ধ করা
৪. ইরানের কাছে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া
৫. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সর্বোচ্চ ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমিত করা
৬. হিজবুল্লাহ ও হুতির মতো আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কগুলো পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া
৭. ইরানের ওপর কঠোর, কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো আলোচনার শর্ত হিসেবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধ এবং তাদের তথাকথিত প্রক্সি বা আঞ্চলিক অক্ষশক্তির মদদ দেওয়া বন্ধ করা বাধ্যতামূলক হতে হবে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধ চাপিয়ে দিলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করবে না ইরান
তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় এখন পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব পায়নি, যা ইসরায়েলকে বিচলিত করে তুলেছে।
গত সপ্তাহে একটি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে শুধু পরমাণু ইস্যুতেই আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ইসরায়েলের বার বার হস্তক্ষেপ ও অনুরোধের ফলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনসহ আরও অনেক বিষয়ে আলোচনার মধ্যে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করে। তবে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট, তারা কোনোভাবেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনা বা দর কষাকষির বিষয় হতে দেবে না। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
মাহফুজ/