ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র আলফাডাঙ্গায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নতুন দায়িত্বে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ চট্টগ্রামের অপহরণকারীদের হুমকিমূলক চিরকুট,নিখোঁজ শিশু উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কলম্বিয়ার শুভ সূচনা ধোবাউড়ায় শিশু নিছামনি ধর্ষণ-হত্যার বর্ণনা দিলেন ৪ ধর্ষক গ্রাহক আস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় সাফল্যের চূড়ায় পূবালী ব্যাংক ১৩ অঞ্চলে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল? মেসি-দ্যুতিতে রঙিন বিশ্ব ভুল পরিকল্পনায় ঝুলে গেল মন্ত্রীদের জন্য মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প মেসিতে মাতাল বিশ্ব বাঁশখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু কুমিল্লায় কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২ বিশ্বকাপে অভিষেকেই বিরল ভৌগোলিক কৃতিত্ব উজবেকিস্তানের ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি
Nagad desktop

ইরানে সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ইরানে সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী দ্যা ইউএসএস জেরাল্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হবে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নির্দেশ দেন তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযান চালাবে দেশটির সামরিক বাহিনী।

দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, এই সংঘাত দুই দেশের মধ্যে অতীতে দেখা যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর হতে পারে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

এর ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।

আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।

এরআগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার সতর্ক করে বলেছেন যে, ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও, এটি করা অত্যন্ত কঠিন।

এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে সরকার পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো বিষয় হতে পারে। এদিন সন্ধ্যায় ফোর্ট ব্র্যাগে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, হামলা এড়াতে ইরানের উচিত ‘আমাদের এমন একটি চুক্তি দেওয়া, যা প্রথমবারেই তাদের দেওয়া উচিত ছিল।’

দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দেশের স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন।’

পেন্টাগন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের পরিকল্পনাটি অনেক বেশি জটিল। একজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক বাহিনী কেবল পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, বরং ইরানের রাষ্ট্রীয় এবং নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানতে পারে। তবে তিনি সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী দ্যা ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম সোশ্যাল ট্রুথ- এ রণতরীটির আকাশ থেকে তোলা একটি ছবি শেয়ার করেছেন। এতে দেখা যাচ্ছে এটি মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে, যেখানে আগে থেকেই আরেকটি মার্কিন রণতরী ইউএস আব্রাহাম লিংকন রয়েছে।

পেন্টাগন জানুয়ারিতে এই রণতরীটি সেখানে পাঠিয়েছিল। ওই সময় ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে সরকারি অভিযানের প্রেক্ষাপটে হামলার হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছিল।

ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন যে পারমাণবিক চুক্তি না হলে তিনি ইরানে হামলা চালাতে পারেন। তবে বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরকার জোর দিয়ে বলছে যে, তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হেজবুল্লাহ কিংবা হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

ইরান এখন পর্যন্ত ইঙ্গিত দিয়েছে যে দেশটির ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কিছুটা সীমিত করতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য ইরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এবারের এই বিক্ষোভের সময়েই সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ওই বিপ্লবের মাধ্যমেই সর্বোচ্চ নেতার মাধ্যমে দেশটিতে ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি

সুমন/

চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
চুক্তির ১৪ দফা প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) নথি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১৪ দফার এই নথি পড়ে শোনান।

আগামী শুক্রবার (১৯জুন) সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এর আগেই বুধবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়।  যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, গত রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন।

জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। চূড়ান্ত চুক্তি ও খসড়ার মূল পার্থক্য সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া খসড়াটির সাথে চূড়ান্ত নথির দুটি প্রধান জায়গায় অমিল রয়েছে:

১. ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয়করণ: ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিষ্ক্রিয় করতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (IAEA)-এর তত্ত্বাবধানে একটি 'ন্যূনতম পদ্ধতি' যুক্ত করা হয়েছে, যা আগের খসড়ায় ছিল না।

২. হরমুজ প্রণালী: চূড়ান্ত চুক্তিতে উল্লেখ আছে যে, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনো প্রকার শুল্ক বা চার্জ ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেবে।

সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ ১৪ দফা:

১. যুদ্ধ অবসান: ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং এই যুদ্ধে জড়িত তাদের মিত্র দেশগুলো এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সাথে সাথে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের ঘোষণা দিচ্ছে। এখন থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী পদক্ষেপ নেবে না এবং বলপ্রয়োগ বা হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।

২. সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা: দুই দেশই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না।

৩. চূড়ান্ত আলোচনার সময়সীমা: উভয় পক্ষ আগামী সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে। প্রয়োজনে আলোচনার এই সময়সীমা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

৪. নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তি স্বাক্ষরের সাথে সাথেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের আশেপাশের এলাকা থেকে তার সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে।

৫. হরমুজ প্রণালী উন্মুক্তকরণ: চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর এবং বিপরীতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেবে। ইরান এই রুটের সব কারিগরি ত্রুটি ও মাইন অপসারণ করবে।

৬. ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক তহবিল: ইরান পুনর্গঠন এবং দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা তৈরি করবে, যেখানে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের অর্থায়ন নিশ্চিত করা হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে।

৭. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

৮. পারমাণবিক কর্মসূচি: ইরান পুনর্ব্যক্ত করছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। ইরানের সমৃদ্ধকৃত পরমাণু সামগ্রীর ভবিষ্যৎ এবং পরমাণু সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো চূড়ান্ত চুক্তিতে বিস্তারিতভাবে সমাধান করা হবে।

৯. স্থিতাবস্থা বজায় রাখা: চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমান স্তরেই স্থির রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা এই অঞ্চলে নতুন করে সেনা বাড়াবে না।

১০. তেল রপ্তানিতে ছাড়: এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উঠে যাওয়ার দিন পর্যন্ত মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং এর উপজাত সামগ্রী রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড় (waivers) দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বিমা ও পরিবহন সেবার মতো খাতগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

১১. ফ্রিজ হওয়া অর্থ মুক্তি: চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ইরানের আটকে থাকা বা ফ্রিজ হওয়া সমস্ত তহবিল ও সম্পত্তি অবমুক্ত করা হবে। এই অর্থ সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইরান (ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক) তাদের নির্ধারিত যেকোনো সুবিধাভোগীর পেমেন্টের জন্য সম্পূর্ণ ব্যবহার করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স দেবে।

১২. তদারকি কমিটি: চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে একটি যৌথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা বা মেকানিজম গঠন করা হবে।

১৩. পরবর্তী আলোচনা: এই সমঝোতা স্মারকের ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার আশ্বাস পাওয়ার পর, উভয় দেশ বাকি ধারাগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য মূল আলোচনায় প্রবেশ করবে।

১৪. জাতিসংঘের অনুমোদন: চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাব বা রেজোলিউশনের মাধ্যমে অনুমোদিত ও বৈধ হতে হবে।

পর্দার আড়ালের রাজনীতি যদিও এই চুক্তিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবুও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা একে একটি "রাজনৈতিক দলিল" হিসেবে বর্ণনা করে এর তাৎপর্য কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, এই খসড়ায় তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। অন্যদিকে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম' এই ফাঁসের ঘটনা এবং খসড়ার কিছু অংশকে 'ত্রুটিপূর্ণ ও নির্ভুল নয়' বলে দাবি করেছে। সূত্র: সিএনএন

তামান্না রুপা/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খসড়া ফাঁস
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ অবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্য নিয়ে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রস্তুত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন এই খসড়া চুক্তির একটি অনুলিপি হাতে পেয়েছে।

ফ্রান্সে চলমান জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া একজন কূটনীতিক এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আরও দুটি কূটনৈতিক সূত্র এই খসড়া দলিলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই খসড়াটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রকৃত রূপ নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম এই ফাঁসের ঘটনাকে ‘ভুল তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে চূড়ান্ত নথিতে স্বাক্ষর করবেন। তার আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ডিজিটালভাবে এই খসড়া চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এই স্মারককে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসেবে অভিহিত করে এর গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে যে মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা এই নথিতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

খসড়া চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে দুই দেশ এবং তাদের মিত্রদের মধ্যকার যুদ্ধ অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে শেষ হবে। দুই দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালিয়ে যাবে।

চুক্তির আওতায় স্বাক্ষর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান মাইন অপসারণসহ সব প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চল থেকে তার সেনা প্রত্যাহার করে নেবে। এ ছাড়া ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক সহযোগীরা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল নিশ্চিত করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের ওপর থাকা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে ইরান যাতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানি করতে পারে, সে জন্য মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র বা ওয়েভার ইস্যু করবে। একই সঙ্গে ইরানের ফ্রিজ বা আটকে থাকা সব তহবিল ও সম্পদ অবমুক্ত করা হবে এবং ইরানের সেন্ট্রাল ব্যাংক তা ব্যবহার করতে পারবে।

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এই খসড়ায় সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশই বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। অর্থাৎ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি বাড়াবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না বা ওই অঞ্চলে সেনা বাড়াবে না। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বাস্তবায়নের পর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করার জন্য একটি যৌথ বাস্তবায়ন কমিটিও গঠন করা হবে। আগামীকাল এই স্মারক স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত চুক্তি নির্ধারণের জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

 সূত্র: সিএনএন

ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও লেবাননে আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “ইরান সংঘাত এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মানবিক সংকটে তারা ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। ‘বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় চীন ইরান ও লেবাননে মানবিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সেখানে পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়নে সহায়তা করা যায়।”

এটি চলমান সংঘাত শুরুর পর দ্বিতীয়বারের মতো ইরানে চীনের মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ। এর আগে মার্চ মাসেও বেইজিং তেহরানে সহায়তা পাঠিয়েছিল।

চীনের সহয়তা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ৩,৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে চীনের এমন পদক্ষেপ ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমান/

ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ফের উত্তপ্ত লেবানন, নতুন হামলা ইসরায়েলের
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনাকে উপক্ষা করেই লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

বুধবার (১৭ জুন) লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এলাকা এবং পাশের কফর তেবনিতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

তবে এর আগে তারা বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের জন্য হওয়া চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান বলেছে, ওই সমঝোতায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেছেন, লেবাননের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল "অনেক দিন ধরে" হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং এতে "অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।"

এসএন/

চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
চুক্তি না মানলে ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর বাস্তবায়নে তিনি সন্তুষ্ট না হলে আবারও ইরানের ওপর বোমা হামলা চালানো হতে পারে।

সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “এটি একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমরা আবার গুলি চালাবো এবং তাদের ওপর বোমা ফেলবো।"

"তারা যদি ঠিকভাবে আচরণ না করে, তাহলে আবার বোমা হামলা শুরু হবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।

এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্রান্সের এভিয়ঁ লে বেঁ শহরে সোমবার শুরু হওয়া জি–৭ শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শেষ হচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে তাঁরা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।

এসএন/