ব্রিটিশ পুলিশ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সাবেক প্রাসাদে তল্লাশি চালায়। এর আগেই পুলিশ স্টেশন থেকে বের হওয়া তার একটি ছবি বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত থাকাকালে তিনি কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিনকে গোপন সরকারি নথি পাঠিয়েছিলেন।
পুলিশ হেফাজতে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় থাকার পর তাকে তদন্তাধীন অবস্থায় মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। রয়টার্সের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মুক্তির পর একটি রেঞ্জ রোভারের পেছনের আসনে বসে আছেন তিনি। সে সময় তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল এবং মুখে ছিল বিস্ময়ের ছাপ।
একসময় সুদর্শন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্রিয় পুত্র হিসেবে পরিচিত অ্যান্ড্রুর সেই ছবি ব্রিটেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপা হয়। ‘ডাউনফল’ শিরোনামও দেখা যায় একাধিক পত্রিকায়। ডেইলি মেইল পত্রিকার প্রথম ১৫ পৃষ্ঠা জুড়ে ছিল এই খবর। রাজা চার্লসের ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’ মন্তব্যও ব্রিটেনের পাঁচটি পত্রিকার প্রধান শিরোনাম হয়। অস্ট্রেলিয়া-ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতাতেও এই গ্রেপ্তারের খবর গুরুত্ব পায়।
এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অ্যান্ড্রু সবসময়ই কোনো ধরনের অনিয়ম অস্বীকার করেছেন এবং তাদের বন্ধুত্ব নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। ২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু হয়।
প্রকাশিত নথিগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সরকারের বিশেষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আফগানিস্তানে বিনিয়োগের সুযোগ এবং ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সফরের মূল্যায়নসংক্রান্ত ব্রিটিশ সরকারি প্রতিবেদন এপস্টিনকে পাঠিয়েছিলেন অ্যান্ড্রু।
সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকা একজন জ্যেষ্ঠ রাজপরিবারের সদস্যের এ ধরনের গ্রেপ্তার আধুনিক কালে নজিরবিহীন। ব্রিটেনে সর্বশেষ যে রাজপরিবারের সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি ছিলেন রাজা প্রথম চার্লস। ১৬৪৯ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সূত্র: রয়টার্স