দিল্লির একটি আদালত আবগারি দুর্নীতি মামলায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তার ডেপুটি মনিশ সিসোদিয়াকে খালাস দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, আবগারি নীতিতে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছিল না।
কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) জানিয়েছে, তাদের তদন্তের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা করা হয়েছে বা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এই অভিযোগে তারা দ্রুতই উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
সিবিআইয়ের জন্য এটি একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত জানিয়েছে, কুলদীপ সিং নামে এক সরকারি কর্মচারীকে মামলার এক নম্বর আসামি করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হবে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সন্দেহভাজনদের ক্ষমা করে দিয়ে তাদের সাক্ষী বানানোর পদ্ধতিরও কঠোর সমালোচনা করেছে আদালত।
মামলাটি দিল্লিতে ক্ষমতায় থাকাকালে আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান কেজরিওয়াল এবং তার সহযোগীর জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছিল। মামলাটির সূত্রপাত ২০২১-২২ সালে আপ সরকারের চালু করা একটি মদ নীতিকে ঘিরে। সে সময় কেজরিওয়াল সরকার দাবি করেছিল, আগের ব্যবস্থার তুলনায় এই নতুন নীতি থেকে অনেক বেশি রাজস্ব আসবে।
পরবর্তী সময়ে দিল্লি সরকার ওই নীতি বাতিল করে দেয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের কেজরিওয়াল বলেন, ‘আমরা সবসময় বলেছি, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়। আমি সবসময় বলেছি, সত্য আমাদের সঙ্গে আছে। একজন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে তার বাড়ি থেকে টেনে বের করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। আমাদের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়া হয়েছিল।’
কথা বলতে গিয়ে ভারতের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি কঠোরভাবে সৎ একজন মানুষ।’ ২০১১ সালে আন্না হাজারের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে কেজরিওয়াল নিজ রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। সূত্র: এনডিটিভি