যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার বক্তব্য চলাকালীন হাততালি দেওয়ার কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। হোয়াইট হাউসে ইন্টার মিয়ামি দলকে দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প যখন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং আমাদের চমৎকার ইসরায়েলি সহযোগীরা মিলে শত্রুকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছে,” তখন পাশে দাঁড়িয়ে মেসিকে হাততালি দিতে দেখা যায়। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে মেসির পাশাপাশি মিয়ামি দলের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও করতালি দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিবিতে ট্রাম্প মেসির ভূয়সী প্রশংসা করলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিয়ামি অধিনায়কের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে হারিয়ে এমএলএস (MLS) শিরোপা জেতে ইন্টার মিয়ামি এবং মেসি টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড় (MVP) নির্বাচিত হন।
৩৮ বছর বয়সী মেসির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, “কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগে যা বলার সুযোগ হয়নি, তা বলা আমার পরম সৌভাগ্য: লিওনেল মেসি, হোয়াইট হাউসে আপনাকে স্বাগতম।” তিনি আরও যোগ করেন, “লিও, আপনি এখানে এসেছেন এবং জয়ী হয়েছেন। এটি অত্যন্ত কঠিন এবং অস্বাভাবিক একটি কাজ। আপনার ওপর অন্য যেকোনো মানুষের চেয়ে অনেক বেশি চাপ থাকে, কারণ সবাই আপনার জয়ই আশা করে।”
অনুষ্ঠানের শুরুতে মেসি ট্রাম্পের সঙ্গে প্রবেশ করলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। তবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি এবং কিউবা ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। ট্রাম্প গত শনিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার দম্ভোক্তি করে বলেন, যা এ পর্যন্ত ১৩৩২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে।
তবে ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর সামরিক হামলার বড়াই করছিলেন, তখন মেসির মতো একজন ব্যক্তিত্বের হাততালি দেওয়াকে অনেকেই সহজভাবে নিতে পারেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর কড়া সমালোচনা হয়েছে।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান লেখক আলী আবুনিমাহ ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘অসার ও স্বার্থপর মানুষ।’’
‘হালাল নেশন’ নামক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়েছে, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানকে হারানোর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলছেন, তখন মেসি হাততালি দিচ্ছেন। মেসি ভক্তরা কোথায়?’’
স্প্যানিশ সাংবাদিক লায়লা হামেদ এই ঘটনাকে ‘অদ্ভুত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গত কয়েক দিনে ইরানে শত শত শিশু নিহত হয়েছে। গত শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জন ছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাটিও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউটিউব চ্যানেল ‘ট্যাকটিক্যাল ম্যানেজার’ মন্তব্য করেছে, ‘‘আমি ভাবিনি কোনোদিন ট্রাম্পকে অন্য দেশে বোমা ফেলার কথা বলতে দেখব আর পেছনে মেসি ও সুয়ারেজ দাঁড়িয়ে থাকবেন।’’
মেসি ট্রাম্পকে সই করা ফুটবল উপহার দিলেন
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প খেলাধুলা এবং সামরিক শক্তিকে এক সুতোয় গাঁথার চেষ্টা করেন। রসিকতা করে তিনি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের দলে কি কোনো দেখতে খারাপ খেলোয়াড় আছে? আমি সুদর্শন পুরুষদের পছন্দ করি না, এতে নিজের সম্পর্কে খুব একটা ভালো অনুভূতি হয় না।”
মেসি সাধারণত রাজনীতি এড়িয়ে চলেন। তাকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, “আপনি বিশ্বের যেকোনো জায়গায়, যেকোনো দলে যেতে পারতেন, কিন্তু আপনি মিয়ামিকে বেছে নিয়েছেন। আবহাওয়াও খুব ভালো। আপনি কি ডোরালে (ট্রাম্পের মালিকানাধীন গলফ কোর্স) গিয়ে গলফ খেলেন?”
মেসি ট্রাম্পকে তার সই করা একটি ফুটবল উপহার দেন। ট্রাম্প জানান যে তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন মেসির একজন বিশাল ভক্ত। তিনি মেসিকে পেলের চেয়েও সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেন। ইন্টার মিয়ামির সহ-স্বত্বাধিকারী হোর্হে মাস এবং কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো ট্রাম্পকে দলের জার্সি ও ঘড়ি উপহার দেন।
২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো মেসি আগামী গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আসন্ন এই ক্রীড়া আসরের ওপর কালো ছায়া ফেলেছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/