ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিরোধক বা ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফোর’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছর ইরানের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় বিপুলসংখ্যক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের ফলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল ছিল। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইসরায়েলের দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের কাছ থেকে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র (ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে এমন ক্ষেপণাস্ত্র) নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। খবর ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম Ynet-এর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইয়েভজেন করনিচুক নিশ্চিত করেছেন যে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ফোনালাপের অনুরোধ জেলেনস্কির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে জেলেনস্কির ব্যস্ততার কারণে এখন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার সময়সূচি নির্ধারণ হয়নি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইরান তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ (গুচ্ছ বোমা) ব্যবহার করছে। এটি একদিকে যেমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করাকে আরও জটিল করে তুলছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের মজুতও দ্রুত শেষ করে দিচ্ছে। ওয়াশিংটন এই সমস্যা সম্পর্কে কয়েক মাস আগে থেকেই অবগত ছিল। একজন মার্কিন কর্মকর্তা সেমাফোর’কে বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা আমরা আগেই প্রত্যাশা করেছিলাম।’
তবে ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলে, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুতে এ ধরনের কোনো ঘাটতি নেই এবং তাদের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ইন্টারসেপ্টর রিজার্ভ রয়েছে। এই মন্তব্যটি এমন একসময়ে এল, যখন উদ্বেগ বাড়ছে যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে দ্রুত নিঃশেষ করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগের সামরিক সহায়তা প্যাকেজগুলোতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নতুন করে বড় কোনো চালান পাঠালে তা মার্কিন নিজেদের মজুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অঞ্চলে আমাদের ঘাঁটি, কর্মী এবং স্বার্থ রক্ষা করার জন্য যা প্রয়োজন তার সবকিছুই আমাদের কাছে রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে ইসরায়েল তাদের এই ঘাটতি মেটাতে নিজস্ব সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সরঞ্জামের ‘কার্যত সীমাহীন’ সরবরাহ রয়েছে। তবে তার এই দাবির কোনো নিরপেক্ষ সত্যতা পাওয়া যায়নি।
‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ১৫০টিরও বেশি থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টর নিক্ষেপ করেছিল, যা তৎকালীন মার্কিন মজুতের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এ ছাড়া চলমান যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে ওয়াশিংটন প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে বলেও জানা গেছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই